সাতক্ষীরা রেঞ্জের সুন্দরবনে বনদস্যুদের হাতে ছয় জেলে অপহরণের ঘটনা ঘটেছে। রোববার রাত প্রায় ১১টার দিকে মালঞ্চ নদীর চালতেবেড়ি ও সুবদে খাল এলাকায় পাঁচটি মাছধরা নৌকায় হামলা চালিয়ে তাদের অপহরণ করা হয়।
দস্যুরা নিজেদের ‘নানা ভাই ওরফে ডন বাহিনী’র সদস্য বলে পরিচয় দেয়। অপহৃতরা হলেন শ্যামনগর উপজেলার দক্ষিণ কদমতলীর কুলতলী এলাকার ইয়াছিন খাঁ (৩২) ও আলমগীর খাঁ (৩৮), হরিনগরের আল আমিন মোল্লা (৩৫), কামরুল গাজী (৫০), শাহজাহান গাজী (৪৮) এবং খুলনার কয়রা উপজেলার মহেশ্বরীপুর গ্রামের শহীদুল গাজী (৪৬)।
অপহরণের পর দস্যুরা প্রত্যেক জেলের জন্য ৩০ হাজার টাকা করে মুক্তিপণ দাবি করে। সোমবার বিকেল ৩টার মধ্যে টাকা পরিশোধ না করলে অপহৃতদের হত্যা করে মরদেহ নদীতে ভাসিয়ে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়।
হামলার সময় দস্যুদের বাধা দিতে গেলে ইসমাইল খাঁ নামে এক জেলে গুরুতর আহত হন। দস্যুরা নৌকার বৈঠা দিয়ে তার মাথায় আঘাত করলে তিনি গুরুতর জখম হন। পরে তাকে শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। ইসমাইল দক্ষিণ কদমতলীর কুলতলী এলাকার গণি খাঁর ছেলে।
স্বজনরা জানান, কদমতলা স্টেশন থেকে কাঁকড়া আহরণের অনুমতি নিয়ে ১৮ জন জেলে পাঁচটি নৌকায় সুন্দরবনে প্রবেশ করেছিলেন। ১ জুন থেকে সুন্দরবনে সরকারি নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ায় সোমবার সকালে তাদের ফিরে আসার কথা ছিল। কিন্তু রোববার রাতে মালঞ্চ নদীতে অবস্থানকালে সশস্ত্র দস্যুরা তাদের ওপর হামলা চালিয়ে ছয়জনকে অপহরণ করে। একই সঙ্গে একটি বিকাশ নম্বরে মুক্তিপণের টাকা পাঠানোর নির্দেশ দেয়।
এ বিষয়ে কদমতলা স্টেশনের কর্মকর্তা মনিরুল করিম জানান, ঘটনাটি তার জানা নেই।
অন্যদিকে, শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. খালেদুর রহমান বলেন, এ ঘটনায় এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ থানায় জমা পড়েনি। অভিযোগ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।