মধ্যপ্রাচ্য সংকটে প্রথম পরীক্ষায় ‘উত্তীর্ণ’ ম্যাজিকম্যানখ্যাত মন্ত্রী আরিফ?
ফ্লাইট বাতিলের ধাক্কায় যাত্রী দুর্ভোগ কমাতে রাতভর বিমানবন্দরে ‘ম্যাজিকম্যান’ খ্যাত মন্ত্রীর তৎপরতা, তবে টিকিট–সমস্যা সমাধানই এখন বড় চ্যালেঞ্জ

হঠাৎ করেই মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের দামামা!
আকাশপথে অনিশ্চয়তা, একের পর এক ফ্লাইট স্থগিত ও বাতিল। এমন পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েন প্রবাসগামী শ্রমিকেরা—যাদের বড় অংশই মধ্যপ্রাচ্যমুখী। এই অস্থিরতার মধ্যেই সিলেট সফরে ছিলেন প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী, ‘ম্যাজিকম্যান’ খ্যাত আরিফুল হক চৌধুরী। পরিস্থিতির গুরুত্ব অনুধাবন করে তিনি রাতেই ঢাকায় ফিরে আসেন এবং সরাসরি উপস্থিত হন হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর–এ।
সন্ধ্যার দিকে কিছুটা বিশৃঙ্খলা ও অনিশ্চয়তা থাকলেও রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। রাত ১০টার পর থেকে যাত্রীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে আসে। ‘ম্যাজিকম্যান’ খ্যাত মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী সচিব ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিয়ে প্রায় সারা রাত বিমানবন্দরে অবস্থান করেন। বাতিল ফ্লাইটের যাত্রীদের বিকল্প ব্যবস্থা, প্রয়োজনীয় তথ্য প্রদান ও সমন্বয়ের জন্য তাৎক্ষণিক নির্দেশনা দেওয়া হয়।
মধ্যপ্রাচ্যমুখী যাত্রীদের বড় অংশই শ্রমিক শ্রেণির। তাঁদের অনেকেই সীমিত আয়ের মানুষ; কারও ভিসার মেয়াদ, কারও নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজে যোগদানের বাধ্যবাধকতা থাকে। এমন পরিস্থিতিতে দীর্ঘসূত্রতা বা প্রশাসনিক জটিলতা বড় ধরনের আর্থিক ও মানসিক ক্ষতির কারণ হতে পারে। এই বাস্তবতা বিবেচনায় শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী যাত্রীদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন এবং অযথা হয়রানি এড়িয়ে দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দেন। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সমন্বিত তৎপরতায় প্রথম ধাক্কা অনেকটাই সামাল দেওয়া গেছে।
সংকটকালে সাধারণত টিকিট পুনঃনির্ধারণে জটিলতা, অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বা দালালচক্রের সক্রিয়তার অভিযোগ ওঠে। তবে এবার অন্তত প্রাথমিক পর্যায়ে বড় ধরনের অনিয়মের খবর পাওয়া যায়নি। প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ের সরাসরি উপস্থিতি ও নজরদারি সম্ভাব্য বিশৃঙ্খলা রোধে ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
তবে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে—এটুকুই কি যথেষ্ট? বাতিল হওয়া বহু ফ্লাইটের যাত্রীরা এখনো অনিশ্চয়তায় রয়েছেন। তাঁদের প্রত্যাশা, আগের টিকিটেই যেন অতিরিক্ত অর্থ ছাড়াই দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছানোর নিশ্চয়তা দেওয়া হয়। নতুন করে টিকিট কাটার সামর্থ্য অনেকের নেই; ফলে দীর্ঘসূত্রতা তাঁদের জন্য বড় চাপের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, তাৎক্ষণিক ব্যবস্থাপনায় সক্রিয়তা প্রশংসনীয় হলেও এখন প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি ও সমন্বিত পদক্ষেপ। সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনসগুলোর সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে রি-শিডিউল, ভিসা–সংক্রান্ত জটিলতায় কূটনৈতিক সহায়তা এবং প্রয়োজনে বিশেষ ফ্লাইটের ব্যবস্থা—এসব উদ্যোগ বাস্তবায়ন করতে পারলেই সংকট মোকাবিলায় পূর্ণাঙ্গ সাফল্য আসবে।
সব মিলিয়ে, আকস্মিক আন্তর্জাতিক অস্থিরতায় দ্রুত মাঠে উপস্থিত থেকে নেতৃত্ব দেওয়ার কারণে প্রথম পরীক্ষায় ‘পাশ’ নম্বর পাচ্ছেন—এমন মন্তব্য শোনা যাচ্ছে বিভিন্ন মহলে। তবে চূড়ান্ত মূল্যায়ন নির্ভর করবে বাতিল ফ্লাইটের যাত্রীদের সমস্যা কত দ্রুত ও কার্যকরভাবে সমাধান করা যায়, তার



