ডেস্ক নিউজ :
ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরে সরকারি বিশেষ বরাদ্দের মালামাল বিতরণে অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ উঠেছে বিএনপি ও জামায়াতের স্থানীয় কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধে।
এর মধ্যে এক শিক্ষার্থীর নামে বরাদ্দ হওয়া একটি সাইকেল নিজে গ্রহণ করে নাতনিকে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা জামায়াতের আমির তাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার মুখে শেষ পর্যন্ত সাইকেলটি উপজেলা প্রশাসনের কাছে ফেরত দেন তিনি। পরে সেটি প্রকৃত উপকারভোগীর কাছে হস্তান্তর করা হয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দীপা রানী সরকার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
উপজেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, ২০২৫–২৬ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) বিশেষ বরাদ্দের আওতায় কোটচাঁদপুর উপজেলায় ২৪টি বাইসাইকেল, সেলাই মেশিন, স্প্রে মেশিন, ছাগল, ফুটবল ও হুইলচেয়ার বরাদ্দ দেওয়া হয়। গত ২৪ জুন ইউএনও কার্যালয়ে উপকারভোগীদের মধ্যে এসব সামগ্রী বিতরণ করা হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, ওই দিন কোটচাঁদপুর কামিল মাদ্রাসার সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী সাইমুন ইসলামের অনুপস্থিতিতে তার নামে বরাদ্দ হওয়া সাইকেলটি মাস্টাররোলে স্বাক্ষর করে গ্রহণ করেন উপজেলা জামায়াতের আমির তাজুল ইসলাম। পরে সেটি তিনি তাঁর মেজো ছেলের বাড়িতে নাতনির ব্যবহারের জন্য পাঠিয়ে দেন।
ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। এরপর ঝিনাইদহ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মতিয়ার রহমানের পরামর্শে বুধবার দুপুরে সাইকেলটি ইউএনও কার্যালয়ে ফেরত দেওয়া হয়। পরে প্রশাসন সেটি প্রকৃত উপকারভোগী সাইমুন ইসলামের কাছে পৌঁছে দেয়।
সাইমুন ইসলাম জানায়, তার নামে বরাদ্দ হওয়া সাইকেলটি প্রথমে তাকে দেওয়া হয়নি। তার জন্মনিবন্ধন সনদ ব্যবহার করে অন্য ব্যক্তি সাইকেলটি গ্রহণ করেন। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে প্রশাসনের মাধ্যমে তিনি সাইকেলটি পান।
অভিযোগের বিষয়ে তাজুল ইসলাম প্রথমে বলেন, সাইকেলটি তাঁর এক প্রতিবেশীর ছেলেকে দেওয়া হয়েছিল। পরে তিনি স্বীকার করেন, তাঁর মেজো ছেলে বেকার ও আর্থিক সংকটে থাকায় সাইকেলটি ছেলের মেয়েকে, অর্থাৎ তাঁর নাতনিকে দিয়েছেন।
কোটচাঁদপুর কামিল মাদ্রাসার অবসরপ্রাপ্ত ভাইস প্রিন্সিপাল ও সাবেক জামায়াত নেতা শের আলী বলেন, তাজুল ইসলাম আর্থিকভাবে অসচ্ছল নন। তিনি সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান। তাঁর সন্তানরাও প্রতিষ্ঠিত। অন্যের নামে বরাদ্দ হওয়া সরকারি সাইকেল স্বজনকে দেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
এদিকে সরকারি বরাদ্দের সাইকেল, সেলাই মেশিন ও স্প্রে মেশিন দলীয় নেতাকর্মী ও স্বজনদের মধ্যে বণ্টনের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধেও।
উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান অভিযোগের বিষয়ে বলেন, বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের মধ্যে এসব মালামাল ভাগাভাগি হয়েছে। নিজের ছেলের নামে একটি সাইকেল নেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, স্থানীয় সংসদ সদস্যের কাছে ছেলের জন্য সাইকেল চেয়ে নিয়েছিলেন। একই সঙ্গে তিনি বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশ না করার অনুরোধ জানান।
উপজেলা বিএনপির নেতা সালাউদ্দিন বুলবুল সিডল বলেন, সরকারি বরাদ্দ যদি দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে বণ্টন হয়ে থাকে, তাহলে প্রশাসনের উচিত দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া।
ইউএনও দীপা রানী সরকার বলেন, সাইকেল বিতরণে স্বজনপ্রীতির অভিযোগ পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট সাইকেলটি ফেরত আনা হয়েছে এবং প্রকৃত উপকারভোগীর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। পাশাপাশি সেলাই মেশিন, ছাগল ও স্প্রে মেশিন বিতরণেও কোনো অনিয়ম হয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।