অনলাইন নিউজ ডেস্ক
গ্যাস সংকট নিরসনে দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে থালা-বাসন নিয়ে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী।
রোববার (২ আগস্ট) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি দেশের চলমান গ্যাস সংকট নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে এ আহ্বান জানান।
পোস্টে নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী লেখেন, “সকাল থেকে বাসায় গ্যাস নেই। মানুষের নিত্যপ্রয়োজনীয় এই সেবা বারবার ব্যাহত হওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। যদি দ্রুত এর সমাধান না আসে, তাহলে সবার থালা-বাসন নিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ জানানো উচিত।”
এদিকে, তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহ কমে যাওয়ায় দেশের গ্যাস সংকট আরও তীব্র হয়েছে। প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় আবাসিক, শিল্প ও বাণিজ্যিক খাতে গ্যাসের তীব্র সংকট চলছে। একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বর্তমানে দেশে দৈনিক গ্যাস সরবরাহ নেমে এসেছে প্রায় ২ হাজার ১৫০ মিলিয়ন ঘনফুটে। এর প্রভাব পড়েছে শিল্প-কারখানা, বিদ্যুৎ উৎপাদন, সিএনজি স্টেশন এবং আবাসিক গ্রাহকদের ওপর।
পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে দেশে প্রতিদিন ২ হাজার ৬০০ থেকে ২ হাজার ৭০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হলেও বর্তমানে তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ১৫০ মিলিয়ন ঘনফুটে। অন্যদিকে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট হওয়ায় সরবরাহ ও চাহিদার মধ্যে বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হয়েছে।
এছাড়া এলএনজি সরবরাহ হ্রাসের পাশাপাশি দেশের স্থানীয় গ্যাস উৎপাদনও ধারাবাহিকভাবে কমছে। পেট্রোবাংলা সূত্র জানায়, প্রতিবছর স্থানীয় গ্যাস উৎপাদন গড়ে প্রায় ১৫ কোটি ঘনফুট কমে যাচ্ছে। পুরোনো কূপ সংস্কার করেও কাঙ্ক্ষিত উৎপাদন পাওয়া যাচ্ছে না। দেশের অন্যতম বৃহৎ গ্যাস উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান শেভরনের উৎপাদনও বছরে গড়ে প্রায় ১২০ মিলিয়ন ঘনফুট কমছে। একই সময়ে রাষ্ট্রায়ত্ত গ্যাস কোম্পানিগুলোর উৎপাদনও বছরে প্রায় ৩০ মিলিয়ন ঘনফুট হ্রাস পাচ্ছে।
পেট্রোবাংলার উৎপাদন প্রতিবেদনে দেখা যায়, চলতি বছরের মার্চের প্রথম সপ্তাহে শেভরনের বিবিয়ানা গ্যাসক্ষেত্র থেকে প্রতিদিন ৮১৫ থেকে ৮২০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হলেও ২০ থেকে ৩০ জুলাইয়ের হিসাবে তা কমে প্রায় ৭৫০ মিলিয়ন ঘনফুটে নেমেছে। অর্থাৎ সাড়ে চার মাসে বিবিয়ানা গ্যাসক্ষেত্র থেকে দৈনিক গ্যাস উৎপাদন কমেছে প্রায় ৭০ মিলিয়ন ঘনফুট।