সম্প্রতি নতুন করে আলোচনায় এসেছে যুক্তরাষ্ট্রের কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইনকে ঘিরে প্রকাশিত গোপন নথিপত্র, যা “এপস্টেইন ফাইলস” নামে পরিচিত। ক্ষমতা, প্রভাব ও আন্তর্জাতিক যোগাযোগের জটিল নেটওয়ার্কের নানা তথ্য এতে উঠে এসেছে। প্রকাশিত নথিতে বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নামও উল্লেখ থাকার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে। গবেষণা, দাতব্য কার্যক্রম, জলবায়ু উদ্বাস্তু ইস্যু, রাজনীতি ও ব্যবসায়িক যোগাযোগ—বিভিন্ন ক্ষেত্রের মাধ্যমে এপস্টেইনের বৈশ্বিক সংযোগের বিস্তৃতি এখানে ফুটে উঠেছে।
একটি ই-মেইলে দেখা যায়, একটি বৈঠকের সময় পরিবর্তন করা হয়, কারণ নরওয়ের সাবেক প্রধানমন্ত্রী সে সময় বাংলাদেশের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে রাত ৮টায় বৈঠকে ব্যস্ত ছিলেন। অন্য একটি নথিতে উল্লেখ আছে, এপস্টেইন বাংলাদেশের মোবাইল আর্থিক সেবা ‘বিকাশ’ নিয়ে একটি লেখা পড়েছিলেন। জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত নানা প্রবন্ধও তিনি সংগ্রহ করতেন। এছাড়া এক নরওয়েজিয়ান কূটনীতিক নিয়মিতভাবে তাকে বিভিন্ন বিষয়ে লেখা পাঠাতেন, যার মধ্যে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কিত প্রতিবেদনও ছিল।
এপস্টেইন ফাইলস কী?
দীর্ঘ তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়ার সময় এপস্টেইনের বিভিন্ন সম্পত্তিতে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ নথি, ই-মেইল, ছবি ও ভিডিও জব্দ করা হয়। এসব তথ্য-উপাত্তের সমষ্টিকেই “এপস্টেইন ফাইলস” বলা হয়। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ৩০ লাখ পৃষ্ঠার নথি, প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার ছবি এবং ২ হাজারের মতো ভিডিও প্রকাশ করা হয়েছে, যেখানে তার আর্থিক লেনদেন ও অপরাধ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন তথ্য উঠে এসেছে।
নথিতে কী ধরনের তথ্য রয়েছে?
প্রকাশিত কাগজপত্রে কারাগারে থাকা অবস্থায় এপস্টেইনের মানসিক মূল্যায়ন, তার মৃত্যুকে ঘিরে তথ্য, সহযোগী গিসলেন ম্যাক্সওয়েলের বিরুদ্ধে তদন্ত ও স্বীকারোক্তির বিষয়, এবং প্রভাবশালী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তার ই-মেইল যোগাযোগের রেকর্ড অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এসব নথি থেকে বোঝা যায়, আইনি জটিলতার মধ্যেও তিনি নানা রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রভাবশালী ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রেখেছিলেন।