জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, সীমাহীন ক্ষমতার অহংকার ও শক্তির দম্ভ শেষ পর্যন্ত করুণ পরিণতি ডেকে আনে—জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থান থেকে সব রাজনৈতিক দলের এ শিক্ষা নেওয়া উচিত।
তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচনে সম্ভাব্য পরাজয়ের আশঙ্কা থেকে গণভবনের এক কর্মকর্তার সহায়তায় বিএনপি ও ভারতের সঙ্গে যোগসাজশ করে জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে সাইবার আক্রমণ চালানো হচ্ছে এবং দলের আমির ডা. শফিকুর রহমানকে বিতর্কিত করার চেষ্টা চলছে।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১১টায় নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইল ট্রাক টার্মিনালে অনুষ্ঠিত এক নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে নারায়ণগঞ্জের পাঁচটি আসনে জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দলীয় জোটের উদ্যোগে এই সম্মিলিত জনসভার আয়োজন করা হয়।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, গত ৫৪ বছরে যারা রাষ্ট্র পরিচালনা করেছে তারা নৈতিকতা, আদর্শ, ন্যায়বিচার, দেশপ্রেম ও মানবিকতার পরীক্ষায় ব্যর্থ হয়েছে। জনগণ আর ব্যর্থ দলগুলোর হাতে দেশের দায়িত্ব দিতে চায় না।
তিনি আরও বলেন, জামায়াতে ইসলামী কখনো দেশ শাসনের সুযোগ পায়নি। নৌকা, ধানের শীষ ও লাঙ্গলের প্রতীককে মানুষ পরীক্ষা করেছে, কিন্তু দাঁড়িপাল্লাকে সুযোগ দেওয়া হয়নি। তাই আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জোট প্রার্থীদের বিজয়ী করে একবার পরীক্ষা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। তার দাবি, সুযোগ পেলে দুর্নীতিমুক্ত নতুন রাষ্ট্র গড়ে তোলা হবে।
শিক্ষাব্যবস্থা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ক্ষমতায় গেলে নৈতিকতাভিত্তিক সমন্বিত শিক্ষা কাঠামো চালু করা হবে, যাতে কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় ও মাদ্রাসা থেকে শিক্ষার্থীরা জ্ঞান, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও অর্থনীতিতে দক্ষ হয়ে দেশকে এগিয়ে নিতে পারে।
বিএনপির ঘোষিত ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির সমালোচনা করে তিনি বলেন, দেশের জনসংখ্যা ১৮ কোটি হলেও কার্ড দেওয়ার কথা বলা হচ্ছে ৫০ লাখ মানুষকে—এ ধরনের প্রতিশ্রুতি বাস্তবসম্মত নয়। এর বিপরীতে জামায়াতের পক্ষ থেকে তিনি ঘোষণা দেন, ক্ষমতায় গেলে ৬০ বছরের বেশি বয়সী নাগরিক ও ৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা এবং গর্ভবতী মায়েদের চিকিৎসার দায়িত্ব সরকার নেবে।
নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাবেক এমপি শামীম ওসমানকে ‘সন্ত্রাসীদের গডফাদার’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, একসময় জামায়াতের নারায়ণগঞ্জে প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছিল, কিন্তু এখন তারা প্রকাশ্যে সভা করছে, আর তিনি নিজেই এলাকা ছেড়েছেন।
সভা শেষে নারায়ণগঞ্জের পাঁচটি আসনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দিয়ে তাদের হাতে নিজ নিজ দলের প্রতীক তুলে দেওয়া হয়। জনসভায় সভাপতিত্ব করেন মহানগর জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা মোহাম্মদ আব্দুল জব্বার। এছাড়া জেলা ও বিভিন্ন আসনের জোট প্রার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।