বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, বাংলাদেশ বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে চায়, তবে কোনো শক্তির আধিপত্য মেনে নেবে না এবং কারও কাছে মাথা নত করবে না।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজ মাঠে ১১ দলীয় জোটের নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, কুড়িগ্রামের বড় সমস্যা নদীভাঙন। জেলার প্রধান তিনটি নদীর কারণে প্রতি বর্ষায় নদীপাড়ের মানুষের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দেয়—কখন কার ঘরবাড়ি ভেঙে যায়। তার অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে একটি সুবিধাবাদী গোষ্ঠী নদীগুলোকে নষ্ট করেছে। নদীভাঙন প্রতিরোধে বরাদ্দ করা অর্থ দুর্নীতির মাধ্যমে আত্মসাৎ করা হয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। ক্ষমতায় গেলে সেই অর্থ উদ্ধার করা হবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন।
সীমান্ত হত্যা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অতীতে সীমান্তে বাংলাদেশিদের গুলি করে হত্যা করা হলেও বিচার পাওয়া যায়নি। ফেলানির পরিবারের সঙ্গে দেখা করার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, এমন ঘটনা যেন আর না ঘটে, সে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, জামায়াত কেবল নিজেদের দলের বিজয় চায় না, দেশের ১৮ কোটি মানুষের বিজয় দেখতে চায়। তিস্তাপাড়ের উত্তরাঞ্চলকে কৃষি-শিল্পের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। সেখানে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে বেকারত্ব কমানোর প্রতিশ্রুতি দেন।
নারী শ্রমিকদের বিষয়ে তিনি বলেন, কর্মক্ষেত্রে নারীরা বৈষম্য ও অসম্মানের শিকার হন এবং অনেক ক্ষেত্রে সমান কাজের জন্য কম মজুরি পান। ক্ষমতায় গেলে কর্মস্থল থেকে বাসস্থান পর্যন্ত নারীদের শতভাগ নিরাপত্তা ও সম্মান নিশ্চিত করার অঙ্গীকার করেন তিনি।
এর আগে সকালে তিনি হেলিকপ্টারে ঢাকা থেকে কুড়িগ্রাম জেলা স্টেডিয়ামে পৌঁছান এবং সেখান থেকে নিরাপত্তা বহরের মাধ্যমে জনসভাস্থলে যান।
জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক মো. আজিজুর রহমান স্বপনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় আরও বক্তব্য দেন রাকসু ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ, জাতীয় নাগরিক পার্টির সদস্য সচিব আখতার হোসেন এবং ১১ দলীয় জোটের বিভিন্ন আসনের প্রার্থীরা।