বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান জানিয়েছেন, তার দল আসন্ন নির্বাচনে জয়ের মাধ্যমে সরকার গঠনে আত্মবিশ্বাসী। রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।
তারেক রহমান বলেন, “আমি কীভাবে আমার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ নিয়ে সরকার গঠন করব, তখন বিরোধী দলে কে থাকবে, তা বিবেচনা করতে হবে। আসন সংখ্যা আমি জানি না, তবে যদি তারা বিরোধী দলে থাকে, আশা করি তারা একটি শক্তিশালী বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করবে।”
রয়টার্স স্মরণ করিয়েছে, ২০০১ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী একসঙ্গে দেশের শাসন করেছে। সংবাদ সংস্থা আরও জানিয়েছে, ২০২৪ সালে কয়েক মাসের অস্থিরতায় দেশের তৈরি পোশাক শিল্প মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর জামায়াত পুনরায় জাতীয় ঐক্য গঠনের জন্য আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
৬০ বছর বয়সী তারেক রহমান প্রায় দুই দশক লন্ডনে নির্বাসিত থাকার পর গত ডিসেম্বর দেশে ফেরেন। ছাত্র-যুব নেতৃত্বাধীন গণঅভ্যুত্থানের পর দেশটি একটি অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে পরিচালিত হচ্ছে।
তিনি বলেন, বিএনপি ৩০০ আসনের মধ্যে প্রয়োজনীয় সংখ্যক আসন জেতে আত্মবিশ্বাসী। দলটি ২৯২টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে এবং বাকি আসনে তাদের মিত্ররা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। তবে নির্দিষ্ট সংখ্যা উল্লেখ করতে রাজি হননি।
জয়ী হলে ভারত বা অন্য কোনো দেশের দিকে ঝুঁকবেন কি না—এ বিষয়ে তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশের জন্য প্রয়োজন এমন অংশীদার, যারা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করতে সক্ষম। তিনি বলেন, বিএনপি সরকার গঠিত হলে যুবক-যুবতীদের জন্য কর্মসংস্থান, ব্যবসা-বাণিজ্য প্রসার এবং সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে। বাংলাদেশের স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করবে এমন যে দেশ উপযুক্ত প্রস্তাব দেবে, তার সঙ্গে বন্ধুত্ব হবে, নির্দিষ্ট কোনো দেশের সঙ্গে নয়।
রোহিঙ্গা শরণার্থী বিষয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশে নিরাপদ না হওয়া পর্যন্ত তাদের থাকা চলবে। তবে দেশে ফিরে যাওয়ার জন্য চেষ্টা করা হবে, যেটা কেবল তখনই সম্ভব যখন নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে।