অনলাইন নিউজ ডেস্ক
প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের মর্যাদা রক্ষায় সরকার বদ্ধপরিকর বলে জানিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন। তিনি বলেন, মুক্তিযোদ্ধার তালিকা থেকে অমুক্তিযোদ্ধাদের বাদ দিতে চলমান কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে ছয় হাজারের বেশি ব্যক্তির নাম তালিকা থেকে অপসারণ করা হয়েছে এবং যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।
রোববার (৭ জুন) ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্সে জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের উদ্যোগে মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তমের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত ‘রাষ্ট্র বিনির্মাণে মুক্তিযোদ্ধাদের করণীয়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, যারা জীবন বাজি রেখে সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছেন, তারাই প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার অধিকারী। অমুক্তিযোদ্ধাদের তালিকাভুক্তির মাধ্যমে প্রকৃত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান ক্ষুণ্ন করা হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ইশরাক হোসেন বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মুক্তিযুদ্ধ ও রাষ্ট্র পরিচালনায় অবদান নিয়ে নতুন প্রজন্মের আরও গবেষণা করা প্রয়োজন। তাঁর আদর্শ ধারণ করে দেশ ও রাজনীতিকে এগিয়ে নেওয়ার আহ্বানও জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, জিয়াউর রহমান বহুদলীয় গণতন্ত্র ও স্বাধীন গণমাধ্যমের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সমুন্নত রাখতে বর্তমান সরকারও বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে।
প্রতিমন্ত্রী জানান, জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল পুনর্গঠন, মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণ, চিকিৎসা ও আবাসন সুবিধার উন্নয়ন এবং বীর নিবাস প্রকল্পের অনিয়ম দূর করতে মন্ত্রণালয় কাজ করছে। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নে মুক্তিযোদ্ধাদের সক্রিয় সহযোগিতা প্রয়োজন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ ও চেতনা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে একটি শক্তিশালী সংগঠন গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে, যাতে স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশের ভিত্তি আরও সুদৃঢ় হয়।
অনুষ্ঠানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান, মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি ইশতিয়াক আজিজ উলফাতসহ মুক্তিযোদ্ধা দল ও মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্ম দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।