গত বৃহস্পতিবার ইজেইজা ট্রেনিং কমপ্লেক্সে কোচিং স্টাফদের বৈঠকের পর মনে হচ্ছিল, বিশ্বকাপের জন্য আর্জেন্টিনার স্কোয়াড প্রায় চূড়ান্ত। কিন্তু ঠিক তখনই ফিরে আসে পুরোনো দুশ্চিন্তা। ডিফেন্ডার লিওনার্দো বালের্দির চোট ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নদের পরিকল্পনায় নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।
সমস্যা এখন শুধু একজন ডিফেন্ডারের বিকল্প খোঁজা নয়। বরং প্রশ্ন উঠেছে, গত রবিবার অনুশীলনে থাকা খেলোয়াড়দের সবাই আদৌ বিশ্বকাপের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত কি না।
বালের্দির চোটের পর আর্জেন্টিনা শিবিরে সতর্কতা আরও বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে দলটি পৌঁছেছিল প্রায় এক ডজন ইনজুরি-আক্রান্ত খেলোয়াড় নিয়ে। বালের্দি সেই তালিকায় না থাকলেও স্কালোনির কোচিং স্টাফ জানতেন, তিনি শতভাগ ফিট ছিলেন না। ক্লাব ফুটবলের ব্যস্ত সূচি ও অতিরিক্ত চাপের কারণে অনেকেই নিজেদের শারীরিক অবস্থার যথাযথ যত্ন নিতে পারেননি। তার প্রভাব এখন দেখা যাচ্ছে বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচের আগে।
তবে লিওনেল মেসি, থিয়াগো আলমাদা, নিকো গঞ্জালেস এবং ক্রিশ্চিয়ান রোমেরোকে ঘিরে কিছুটা স্বস্তি আছে। হন্ডুরাসের বিপক্ষে ২-০ ব্যবধানে জেতা ম্যাচে এদের মধ্যে দুজন শুরুর একাদশে খেলেছেন। মেসি ও নিকো বেঞ্চে থাকলেও পরে অনুশীলনে অংশ নিয়েছেন। তবু তাদের শারীরিক অবস্থা নিয়ে পুরোপুরি নিশ্চিন্ত হওয়ার সুযোগ নেই।
এমন পরিস্থিতিতে দলের পরিকল্পনা নিয়ে সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন কোচ লিওনেল স্কালোনি।
‘ফ্ল্যাকো’ বালের্দির পরিবর্তে কাকে নেওয়া হবে, তা এখনও নিশ্চিত নন জানিয়ে স্কালোনি বলেন, ‘এখনই আতঙ্কের কিছু নেই। অনেক খেলোয়াড়ই শতভাগ ফিট নয়। তাই সিদ্ধান্তটা শুধু একজন সেন্ট্রাল ডিফেন্ডারের বদলি নিয়ে নয়। আমরা আরও কিছুটা সময় নিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করব।’
স্কালোনির বক্তব্য থেকেই পরিষ্কার, কোনো তাড়াহুড়ো করতে চান না তিনি। পুরো স্কোয়াডের শারীরিক অবস্থা মূল্যায়ন করেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন। প্রায় ৪০ দিন আগে বাঁ গোড়ালিতে চোট পাওয়া হুলিয়ান আলভারেজ হয়তো কিছুটা ছাড় পেতে পারেন, কিন্তু একাধিক খেলোয়াড়ের ক্ষেত্রে ঝুঁকি নেওয়ার সম্ভাবনা কম।
কোচ আরও বলেন, ‘আমাদের সামনে আরেকটি প্রস্তুতি ম্যাচ আছে। সেটির পর পরিস্থিতি আরও পরিষ্কার হবে। বালের্দির দুর্ভাগ্যজনক চোট আমাদের অন্যদের অবস্থাও নতুন করে মূল্যায়ন করতে বাধ্য করছে।’
এদিকে দলের এক নম্বর গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজের অবস্থা আশাব্যঞ্জক। আইসল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচের পর তার ডান হাতের অনামিকা আঙুলে থাকা প্রতিরক্ষামূলক স্প্লিন্ট খুলে ফেলার কথা রয়েছে। চিকিৎসকদের আশা, ততদিনে আঙুলের ফ্র্যাকচার পুরোপুরি সেরে যাবে।
নিকো পাজ এখনও স্কোয়াডে জায়গা পাওয়ার লড়াইয়ে থাকলেও কোচিং স্টাফের প্রধান উদ্বেগ এখন তিন বিশ্বকাপজয়ী ফুটবলার—লিয়ান্দ্রো পারেদেস, গঞ্জালো মন্টিয়েল ও নাহুয়েল মোলিনাকে ঘিরে।
বালের্দির ২ নম্বর জার্সির জন্য নতুন কাউকে দলে নেওয়ার আগে স্কালোনি নিশ্চিত হতে চান, এই তিনজনকে টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই পাওয়া যাবে কি না। সময়ও খুব সীমিত। ফিফার নিয়ম অনুযায়ী, প্রথম ম্যাচের আগের দিন পর্যন্তই কেবল স্কোয়াডে পরিবর্তন আনা সম্ভব, তাও ফিফার মেডিকেল টিম চোটের সত্যতা যাচাই করার পর।
তিনজনের মধ্যে সবচেয়ে পিছিয়ে আছেন পারেদেস। মাত্র ১০ দিন আগে কোপা লিবার্তাদোরেসের ম্যাচে ডান পায়ের হ্যামস্ট্রিংয়ে চোট পান তিনি। যদিও তার ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো আশাবাদী, আলজেরিয়ার বিপক্ষে প্রথম ম্যাচের আগেই তিনি সুস্থ হয়ে উঠবেন। তবে এখনও তার পূর্ণাঙ্গ শারীরিক মূল্যায়ন হয়নি।
অন্যদিকে মোলিনা ও মন্টিয়েল মাংসপেশির চোট থেকে ধীরে ধীরে সেরে উঠছেন। গত রবিবার তারা অনুশীলনের গতি বাড়িয়েছেন এবং মূল দলের সঙ্গেও কাজ করেছেন। হন্ডুরাসের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচে তাদের অনুপস্থিতিতে গিয়াই শুরুর একাদশে সুযোগ পেয়েছিলেন, আর ক্যাপালদোও অভিষেক করেছেন।