অনলাইন নিউজ ডেস্ক
পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অ্যাক্ট (পিপিএ) পর্যালোচনা করে অতীতে সুবিধাভোগী ঠিকাদারদের প্রভাব কমানো এবং যোগ্য ঠিকাদারদের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
সোমবার জাতীয় সংসদে কার্যপ্রণালি বিধির ৭১ অনুযায়ী জরুরি জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মনোযোগ আকর্ষণের নোটিশের ওপর আলোচনায় নরসিংদী-২ আসনের সংসদ সদস্য আশরাফ উদ্দিনের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
আশরাফ উদ্দিন অভিযোগ করেন, ই-জিপি পদ্ধতিতে অতীত সরকারের আমলে অধিক কাজ সম্পাদনকারী অনেক ঠিকাদার এখনও শক্তিশালী প্রোফাইলের কারণে বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ পেয়ে যাচ্ছেন। ফলে নতুন বা তুলনামূলকভাবে কম সুযোগ পাওয়া ঠিকাদাররা প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ছেন।
জবাবে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, বিষয়টি সরকারের নজরে রয়েছে। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এবং অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। পিপিএ আইন কীভাবে পর্যালোচনা করে প্রকৃত যোগ্য ও উপযুক্ত ব্যক্তিদের জন্য সুযোগ নিশ্চিত করা যায়, তা সরকার বিবেচনা করছে।
এর আগে আশরাফ উদ্দিন স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) আওতাধীন প্রকল্পে স্থানীয় ঠিকাদারদের অগ্রাধিকার দেওয়ার দাবি জানান। তিনি বলেন, অনেক ক্ষেত্রে স্থানীয় এলাকার উন্নয়নকাজ অন্য জেলা বা বিভাগের ঠিকাদারদের দেওয়া হয়, যার ফলে বাস্তবায়ন পর্যায়ে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা দেখা দেয়।
এ বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, এলজিইডির মাধ্যমে গ্রামীণ সড়ক, সেতু, কালভার্ট, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বাজার অবকাঠামোসহ বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয় এবং এসব কাজের জন্য নির্দিষ্ট নীতিমালা অনুসরণ করা হয়।
তিনি জানান, সীমিত দরপত্র পদ্ধতিতে শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট জেলার ঠিকাদাররা অংশ নিতে পারেন এবং এ ক্ষেত্রে বাইরের জেলার ঠিকাদারদের অংশগ্রহণের সুযোগ নেই। অন্যদিকে উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে (ওটিএম) অভিজ্ঞতা ও অন্যান্য যোগ্যতা যাচাইয়ের ভিত্তিতে জেলার ভেতর ও বাইরের যেকোনো ঠিকাদার কাজ পাওয়ার সুযোগ পান। তবে সব ক্ষেত্রেই পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অ্যাক্ট (পিপিএ) ও পাবলিক প্রকিউরমেন্ট রুলস (পিপিআর) অনুসরণ করা হয়।
এদিকে একই অধিবেশনে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য নিলোফার চৌধুরী রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভাগীয় ও জেলা শহরগুলোর খেলার মাঠ ও পার্ক উদ্ধার এবং সেগুলোকে মাদকসেবীদের দখলমুক্ত করার দাবি জানান।
এর জবাবে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, অতীত সরকারের সময়ে বিভিন্ন মাঠ ও উন্মুক্ত স্থান দখলের ঘটনা ঘটেছিল। বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর এসব মাঠ ও খোলা জায়গা পুনরুদ্ধারে উদ্যোগ গ্রহণ করেছে এবং উদ্ধার কার্যক্রম চলমান রয়েছে।