অনলাইন নিউজ ডেস্ক
দেশজুড়ে আকস্মিক বন্যা, অতিবর্ষণ ও বিরূপ আবহাওয়ার কারণে চলমান এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষাসহ অন্যান্য বোর্ড ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা সাময়িকভাবে স্থগিতের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল।
রোববার (১২ জুলাই) এক যৌথ বিবৃতিতে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব এবং সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতি মানবিক বিবেচনায় এ বিষয়ে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।
বিবৃতিতে ছাত্রদলের নেতারা বলেন, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে টানা বৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল ও আকস্মিক বন্যার কারণে লাখো পরীক্ষার্থী চরম দুর্ভোগের মধ্যে পড়েছে। অনেকেই স্বাভাবিকভাবে পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে পারছে না। পাশাপাশি নিরাপত্তা ঝুঁকি, মানসিক চাপ এবং যাতায়াত সংকটের কারণে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের ভোগান্তি বেড়েছে। এ অবস্থায় চলমান এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার পাশাপাশি অন্যান্য বোর্ড ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষাও সাময়িকভাবে স্থগিত করা প্রয়োজন বলে তারা মনে করেন।
সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের উদ্ধৃতি দিয়ে বিবৃতিতে বলা হয়, বন্যায় দেশের সাত জেলায় ২ লাখ ৬৭ হাজার ৯১৮টি পরিবার পানিবন্দি হয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা ১০ লাখ ২২ হাজার ৯৬৩ জনে পৌঁছেছে। বন্যাকবলিত এলাকার অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। এছাড়া সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় অনেক পরীক্ষার্থীর জন্য নির্ধারিত কেন্দ্রে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছে।
ছাত্রদলের ভাষ্য অনুযায়ী, বন্যাদুর্গত এলাকায় যোগাযোগব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ায় পরীক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। তাদের দাবি, সাময়িকভাবে পরীক্ষা পিছিয়ে দিলে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সহজ হবে। একই সঙ্গে অনেক শিক্ষার্থীর বই, খাতা ও প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণ নষ্ট হয়ে যাওয়ায় তারা মানসিকভাবে পিছিয়ে পড়ছে, যা পরীক্ষার ফলাফলেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, দেশের একটি বড় অংশের পরীক্ষার্থী সংকটের মধ্যে থাকলেও পরীক্ষা অব্যাহত থাকলে মেধার সুষ্ঠু মূল্যায়ন ব্যাহত হবে এবং সুযোগের সমতা নষ্ট হবে। তাই দুর্যোগ পরিস্থিতির উন্নতি, পরীক্ষা কেন্দ্রগুলো পুনরায় পরীক্ষার উপযোগী হওয়া এবং পরীক্ষার্থীদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত পরীক্ষা সাময়িকভাবে স্থগিত রেখে পরে নতুন সময়সূচি ঘোষণা করার আহ্বান জানানো হয়।
বিবৃতিতে ছাত্রদলের দুই শীর্ষ নেতা আশা প্রকাশ করেন, জনগণের ম্যান্ডেটে নির্বাচিত বর্তমান সরকার ও শিক্ষা মন্ত্রণালয় শিক্ষার্থীদের জীবন, নিরাপত্তা ও ভবিষ্যতের বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেবে। একই সঙ্গে বন্যাকবলিত এলাকার শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়াতে এবং স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে মানবিক সহায়তা কার্যক্রমে অংশ নিতে সংগঠনের সব পর্যায়ের নেতাকর্মীদের প্রতি কেন্দ্রীয় সংসদের পক্ষ থেকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।