পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে গ্রেপ্তার করেছে দুবাই পুলিশ। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা মামলার প্রেক্ষিতে ইন্টারপোলের সহযোগিতায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
পুলিশ সদর দপ্তরের ডিআইজি পদমর্যাদার এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে টাইমস অব বাংলাদেশকে জানান, গত শুক্রবার দুবাই পুলিশ এক চিঠির মাধ্যমে ইন্টারপোলের সহায়তায় বেনজীর আহমেদকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত প্রায় ১১ কোটি ৪ লাখ টাকার সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে। দুদকের কাছে জমা দেওয়া সম্পদ বিবরণীতেও তার প্রকৃত সম্পদের তথ্য গোপনের প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এছাড়া বিদেশে অবৈধভাবে অর্থ পাচারের অভিযোগেও তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। ২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর দুদকের উপ-পরিচালক হাফিজুল ইসলাম বাদী হয়ে মামলাটি করেন। তদন্ত শেষে ২০২৫ সালের ৩০ নভেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করা হয়। পরবর্তীতে ২০২৬ সালের ৮ মার্চ ঢাকার মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।
এর আগে, ২০২৫ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের রেড নোটিশ জারি করা হয়।
শুধু বেনজীর আহমেদই নন, অবৈধ সম্পদ অর্জন ও সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে তার স্ত্রী ও মেয়েদের বিরুদ্ধেও পৃথক চারটি মামলা করে দুদক।
মামলাগুলোতে বেনজীর আহমেদ ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে মোট ৭৪ কোটি ১৩ লাখ ৩৯ হাজার টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন এবং সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগ আনা হয়েছে।
উল্লেখ্য, বেনজীর আহমেদ ২০২০ সালের ১৫ এপ্রিল থেকে ২০২২ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এর আগে তিনি ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার এবং র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) মহাপরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।