অনলাইন নিউজ ডেস্ক
বাংলাদেশে নিজেদের নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের চেষ্টা করছে আল-কায়েদার ভারতীয় উপমহাদেশীয় শাখা (AQIS)—এমন আশঙ্কার কথা জানিয়েছে জাতিসংঘ। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ইসলামিক স্টেট (আইএস) ও আল-কায়েদাবিষয়ক অ্যানালিটিক্যাল সাপোর্ট অ্যান্ড স্যাংশনস মনিটরিং টিমের ৩৮তম প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, AQIS ধীরে ধীরে একটি বিভক্ত গোষ্ঠী থেকে আঞ্চলিক সন্ত্রাসী সংগঠনে রূপ নিচ্ছে। সংগঠনটি বড় আকারের ইউনিটের পরিবর্তে ছোট ও বিচ্ছিন্ন সেলের মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি লজিস্টিক ও অর্থনৈতিক নেটওয়ার্ক গড়ে তুলছে।
জাতিসংঘের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, বাংলাদেশেও সেল প্রতিষ্ঠার জন্য দেশটিকে ব্যবহারের চেষ্টা করছে AQIS। প্রতিবেদনে ২০২৫ সালের ১০ নভেম্বর দিল্লির লালকেল্লার সামনে বিস্ফোরণের সঙ্গে AQIS-এর সম্পৃক্ততার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে, আল-কায়েদা ও ইসলামিক স্টেট দীর্ঘদিন ধরে রাসায়নিক ও জৈব অস্ত্র তৈরির বিষয়ে আগ্রহ দেখিয়ে আসছে বলে জানিয়েছে মনিটরিং টিম। তবে এসব অস্ত্র তৈরির ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত সক্ষমতা অর্জনে এখনো তারা উল্লেখযোগ্য চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের শেষ দিকে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ এক চিকিৎসকসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করে। অভিযোগ ছিল, তারা আল-কায়েদার জন্য ‘রাইসিন’ নামের বিষাক্ত রাসায়নিক তৈরির দায়িত্ব পেয়েছিল।
আফগানিস্তান-পাকিস্তান সীমান্তে বাড়ছে উত্তেজনা
দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করতে গিয়ে আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্যকার ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার কথাও তুলে ধরেছে জাতিসংঘ। বিশেষ করে পাকিস্তানে তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (TTP)-এর ধারাবাহিক হামলা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রকাশ্যে অস্বীকার করলেও আফগানিস্তানের তালেবান কর্তৃপক্ষ এখনো TTP-কে সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে।
জাতিসংঘের মনিটরিং টিমের মতে, আফগানিস্তান থেকে সৃষ্ট সন্ত্রাসী হুমকি এখনো উল্লেখযোগ্য মাত্রায় রয়েছে। দেশটিতে একাধিক সন্ত্রাসী গোষ্ঠী সক্রিয় থাকায় প্রতিবেশী দেশ ও মধ্য এশিয়ার জন্য এটি স্থায়ী নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করছে।
তালেবান কর্তৃপক্ষ ইসলামিক স্টেট খোরাসান (IS-K)সহ বিভিন্ন জঙ্গি গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে অভিযান চালালেও দেশটির সন্ত্রাসী হুমকি পুরোপুরি নির্মূল করা সম্ভব হয়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিশ্বজুড়ে আল-কায়েদা ও আইএসের তৎপরতা
প্রতিবেদনে সাহেল অঞ্চল, সোমালিয়া, ইয়েমেন ও মধ্য আফ্রিকায় আল-কায়েদা ও ইসলামিক স্টেটের সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীগুলোর কার্যক্রমের কথাও তুলে ধরা হয়েছে।
সাহেল অঞ্চলে জামাত নুসরাত আল-ইসলাম ওয়া আল-মুসলিমিন (JNIM) মালিতে হামলা অব্যাহত রেখেছে। একই সঙ্গে গ্রেটার সাহারায় ইসলামিক স্টেটের সঙ্গে তাদের সংঘাতও তীব্র হচ্ছে।
অন্যদিকে, নিরাপত্তা শূন্যতার সুযোগ নিয়ে দক্ষিণ ইয়েমেনে নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করেছে আল-কায়েদা ইন দ্য অ্যারাবিয়ান পেনিনসুলা (AQAP)। মধ্য আফ্রিকাতেও অ্যালাইড ডেমোক্রেটিক ফোর্সেস (ADF) তাদের নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকা বাড়ানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
জাতিসংঘের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অর্থ সংগ্রহ এবং স্থানীয় নিরাপত্তা বাহিনীর সক্ষমতা দুর্বল করার কৌশল হিসেবে আল-কায়েদা ও ইসলামিক স্টেটের বিভিন্ন শাখা এখনো অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়কে অন্যতম প্রধান পদ্ধতি হিসেবে ব্যবহার করছে।