অনলাইন নিউজ ডেস্ক
শেখ মুজিবুর রহমান, তাঁর সহধর্মিণী শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিবসহ ১৫ আগস্ট নিহত পরিবারের সদস্যদের স্মরণে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) ক্যাম্পাসের পাশে শোক ব্যানার টাঙানোর দাবি উঠেছে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতাদের বিরুদ্ধে।
শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় গেটের পাশে ফুট ওভারব্রিজসংলগ্ন বিশ্বজিৎ চত্বর এলাকায় ওই ব্যানার টাঙানো হয় বলে জানা গেছে। এ সময় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আশিক-ই-আতাহার মেসবাহ এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মেহেদি হাসান উপস্থিত ছিলেন বলে দাবি করা হয়েছে।
ব্যানার টাঙানোর বিষয়ে আশিক-ই-আতাহার মেসবাহ বলেন, ‘১৫ আগস্ট বাঙালি জাতির ইতিহাসে এক গভীর শোকের দিন। এই দিন আমাদের মনে করিয়ে দেয়, ইতিহাস কখনো ভুলে যাওয়ার বিষয় নয়। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, তাঁর সহধর্মিণী শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিবসহ পরিবারের সদস্যদের হত্যাকাণ্ড বাংলাদেশের ইতিহাসে গভীরতম ক্ষত হয়ে আছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আজকের এই শোকের দিনে আমাদের অঙ্গীকার হোক—শোককে শক্তিতে রূপান্তরিত করা, ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেওয়া এবং গণতন্ত্র, মানবিকতা ও আইনের শাসনের প্রতি আস্থা আরও দৃঢ় করা। শোক আমাদের থামিয়ে দেবে না, শোক আমাদের জাগাবে।’
অন্যদিকে মেহেদি হাসান বলেন, ‘১৫ আগস্ট আমাদের রাজনীতির ক্যালেন্ডারে শুধু একটি শোকের দিন নয়; এটি ক্ষমতা, ষড়যন্ত্র ও ইতিহাসের নির্মম বাস্তবতার একটি সতর্কবার্তা। বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে তাঁর আদর্শকে থামিয়ে দেওয়া যায়নি। কারণ আদর্শ কোনো ব্যক্তির জীবনে সীমাবদ্ধ থাকে না, তা প্রজন্মের চেতনায় বেঁচে থাকে।’
তিনি আরও বলেন, আজকের প্রজন্মের ছাত্রলীগের দায়িত্ব শুধু অতীতকে স্মরণ করা নয়; বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক দর্শন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও মানুষের অধিকারকে সামনে রেখে ভবিষ্যতের বাংলাদেশ নির্মাণের সংগ্রামকে এগিয়ে নেওয়া।
উল্লেখ্য, ১৫ আগস্টকে ঘিরে রাজনৈতিক কর্মসূচি ও স্মরণ আয়োজন নিয়ে বাংলাদেশে সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাপক রাজনৈতিক বিতর্ক রয়েছে। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের পাশে শোক ব্যানার টাঙানোর ঘটনাটিও সেই প্রেক্ষাপটে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।