অনলাইন নিউজ ডেস্ক
বুধবারের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত না হলে শিক্ষা মন্ত্রণালয় অভিমুখে ‘লংমার্চ’ কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছেন আন্দোলনরত পরীক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) রাত সাড়ে ৯টার দিকে রাজধানীর মানিক মিয়া এভিনিউয়ে এক তাৎক্ষণিক ব্রিফিংয়ে তারা এ ঘোষণা দেন।
এর আগে রাত সোয়া ৮টার দিকে জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে জড়ো হয়ে মানিক মিয়া এভিনিউ অবরোধ করেন শিক্ষার্থীরা। তাদের অভিযোগ, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার মধ্যেও পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে এবং পরীক্ষার্থীদের নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য করা হয়েছে। রাত ৯টা ৪০ মিনিটের দিকে তারা সড়ক ছেড়ে দিলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
ঢাকা সিটি কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থী মিরাজ বলেন, তাদের মূল দাবিগুলোর কোনোটি এখনো বাস্তবায়ন হয়নি। তিনি মঙ্গলবার রাতের মধ্যেই বুধবারের পরীক্ষা স্থগিতের দাবি জানান। পাশাপাশি শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করে বলেন, দাবি পূরণ না হলে বুধবার ‘লংমার্চ টু শিক্ষা মন্ত্রণালয়’ কর্মসূচি পালন করা হবে।
তিনি আরও বলেন, সরকার পরীক্ষা স্থগিত না করলে পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার বিষয়ে আন্দোলনকারীরা আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেবেন।
এর আগে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে সংসদ ভবনের সামনের এলাকা থেকে শিক্ষার্থীদের সরিয়ে দেয় পুলিশ। এ সময় লাঠিচার্জের অভিযোগ ওঠে। একই সময় আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের একটি প্রতিনিধি দল সংসদ ভবনের ভেতরে প্রবেশ করলেও সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের সঙ্গে তাদের কোনো বৈঠক হয়নি।
দিনের শুরুতে রাজধানীর সায়েন্স ল্যাবরেটরি মোড় ও উত্তরার বিএনএস সেন্টারের সামনে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। পরে তারা ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের উদ্দেশে রওনা হন। পথে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজী মুহম্মদ মুহসীন হলের সামনে পুলিশ তাদের আটকে দিলে ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে। পরে ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি শান্ত করেন।
পরে শিক্ষার্থীরা নীলক্ষেত, পলাশী ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তারা আলোচনার প্রস্তাব দিলেও আন্দোলনকারীরা তা প্রত্যাখ্যান করে আবার সায়েন্স ল্যাবরেটরি মোড়ে ফিরে যান। সেখান থেকে বিকেলে তারা জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে গিয়ে নতুন করে অবস্থান নেন।
এদিকে উত্তরায় অবস্থান নেওয়া আরেকটি শিক্ষার্থী দলও বুধবার সচিবালয় অভিমুখে পদযাত্রার ঘোষণা দিয়ে কর্মসূচি শেষ করে।
আন্দোলনকারীদের তিন দফা দাবি হলো—চলমান দুর্যোগ পুরোপুরি শেষ না হওয়া পর্যন্ত এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত রাখা, বৈরী আবহাওয়ার কারণে ১৩ জুলাই পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারা শিক্ষার্থীদের পুনরায় পরীক্ষার সুযোগ দেওয়া এবং আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনের পদত্যাগ।