
রাজধানীর মোহাম্মদপুরে থামছেই না সহিংসতার মিছিল। চার দিনের ব্যবধানে আবারও এক যুবককে প্রকাশ্যে ছুরিকাঘাতে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। বুধবার (১৫ এপ্রিল) দিবাগত রাত ১২টা ৫০ মিনিটের দিকে মোহাম্মদপুরের সাদেক খানের ইটাখোলা এলাকায় এই হত্যাকাণ্ড ঘটে।
নিহতের নাম আসাদুল হক (২৮), যিনি স্থানীয়ভাবে ‘লম্বু আসাদুল’ নামে পরিচিত ছিলেন। এই ঘটনায় এলাকায় নতুন করে তীব্র আতঙ্ক ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে।
ঘটনার বিবরণ ও উদ্ধার
পুলিশ জানায়, মোহাম্মদপুর বেড়িবাঁধের তিনরাস্তা থেকে হাজারীবাগ যাওয়ার পথে ইটাখোলা এলাকায় রক্তাক্ত অবস্থায় আসাদুলের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে এবং ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।
মোহাম্মদপুর জোনের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) জুয়েল রানা বৃহস্পতিবার হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন:
"নিহত আসাদুল বরিশালের গৌরনদী উপজেলার বাসিন্দা ছিলেন এবং মোহাম্মদপুরের মেট্রো হাউজিং এলাকায় ভাড়া থাকতেন। প্রাথমিক আলামত দেখে মনে হচ্ছে, পূর্বশত্রুতার জেরে অজ্ঞাতনামা দুর্বৃত্তরা তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে হত্যা করেছে।"
পুলিশের তদন্তে বেরিয়ে এসেছে যে, নিহত আসাদুলের বিরুদ্ধে মোহাম্মদপুর থানায় মাদক ও ছিনতাইসহ একাধিক মামলা রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ধারণা, অপরাধ জগতের অভ্যন্তরীণ কোন্দল এই হত্যাকাণ্ডের কারণ হতে পারে।
নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা
মোহাম্মদপুরে গত কয়েক দিনে সহিংসতার মাত্রা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে:
১২ এপ্রিল: কিশোর গ্যাংয়ের দুই গ্রুপের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে ‘এলেক্স ইমন’ গ্রুপের প্রধান ইমন ওরফে এলেক্স ইমনকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।
১৫ এপ্রিল: মাত্র চার দিনের মাথায় আসাদুল হত্যাকাণ্ড।
পরপর দুটি খুনের ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে চরম নিরাপত্তা হীনতা বিরাজ করছে। অনেকেই সন্ধ্যার পর ওই এলাকায় চলাচলে ভয় পাচ্ছেন।
পুলিশি ব্যবস্থা
মোহাম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেজবাহ উদ্দিন জানান, ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে। জড়িতদের শনাক্ত করতে সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ ও বিশেষ অভিযান চালানো হচ্ছে। অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে কাজ করছে পুলিশ।