প্রথমবারের মতো রাঙামাটি থেকে পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রী পাওয়ায় জেলাজুড়ে আনন্দ-উচ্ছ্বাস দেখা দিয়েছে। মঙ্গলবার পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন অ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ান। শপথের পর থেকেই রাঙামাটিতে আনন্দের আবহ তৈরি হয়েছে। নেতাকর্মীরা একে অপরকে মিষ্টিমুখ করাচ্ছেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিনন্দন জানাচ্ছেন।
১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি স্বাক্ষরের পর ১৯৯৮ সালের ১৫ জুলাই তিন পার্বত্য জেলা নিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয় গঠিত হয়। শুরুতে এই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন খাগড়াছড়ি থেকে নির্বাচিত কল্পরঞ্জন চাকমা। ২০০১ সালে বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকার গঠনের পর রাঙামাটি থেকে নির্বাচিত মনি স্বপন দেওয়ান উপমন্ত্রীর দায়িত্ব পান।
২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার ক্ষমতায় এলে রাঙামাটির সংসদ সদস্য দীপংকর তালুকদার প্রতিমন্ত্রী হন। পরে ২০১৪ সালে বান্দরবানের সংসদ সদস্য বীর বাহাদুর প্রতিমন্ত্রী এবং ২০১৯ সালে পুনরায় পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রীর দায়িত্ব পান।
২০২৪ সালে আওয়ামী লীগ পুনরায় সরকার গঠন করলে খাগড়াছড়ির সংসদ সদস্য কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব লাভ করেন। খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান থেকে পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রী থাকলেও এবারই প্রথম রাঙামাটি জেলা থেকে কোনো সংসদ সদস্য পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রীর দায়িত্ব পেলেন।
রাঙামাটি সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রনেল দেওয়ান বলেন, দীপেন দেওয়ান দীর্ঘ ২০ বছর ধরে দলের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন এবং দুঃসময়ে পাশে থেকেছেন। সরকারি চাকরি ছেড়ে রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার পর তার ত্যাগ দল মূল্যায়ন করেছে। জাঁকজমকপূর্ণভাবে তাকে বরণ করার প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে।
জেলা নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক ও সাবেক মেয়র সাইফুল ইসলাম চৌধুরী ভূট্টো বলেন, তাদের নেতা তারেক জিয়া রাঙামাটির গণরায়কে সম্মান জানিয়ে প্রথমবারের মতো জেলাটিকে পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রিত্ব দিয়েছেন। এজন্য রাঙামাটিবাসী কৃতজ্ঞ এবং দীপেন দেওয়ান এই আস্থার মর্যাদা রাখবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
এদিকে, এবার প্রথমবারের মতো এই মন্ত্রণালয়ে দুজনকে মন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন চট্টগ্রাম জেলার হাটহাজারী আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মীর হেলাল।