অনলাইন নিউজ ডেস্ক
ফুটবল বিশ্বকাপ মানেই বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনে অন্যরকম উন্মাদনা। আর্জেন্টিনা-ব্রাজিল সমর্থকদের তর্ক, দলগুলোর জয়-পরাজয়ের হিসাব, ম্যাচ বিশ্লেষণ—সব মিলিয়ে দেশের ক্রীড়া আলোচনার প্রায় পুরোটা জুড়েই এখন ফুটবল। আর সেই উন্মাদনার আড়ালেই নীরবে শেষের পথে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের আরেকটি হতাশাজনক বিদেশ সফর।
পূর্ণাঙ্গ সিরিজ খেলতে গত ২১ জুন জিম্বাবুয়ের উদ্দেশে দেশ ছাড়ে বাংলাদেশ দল। ইতোমধ্যে টেস্ট ও ওয়ানডে সিরিজ শেষ হয়েছে, টি-টোয়েন্টি সিরিজের বাকি রয়েছে দুটি ম্যাচ। এখন পর্যন্ত এই সফরে বাংলাদেশের প্রাপ্তি বলতে কার্যত কিছুই নেই।
একমাত্র টেস্টে ইনিংস ও ৮৫ রানের বড় ব্যবধানে হেরেছে টাইগাররা। তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচ হেরে আগেভাগেই সিরিজ খুইয়েছে তারা। টি-টোয়েন্টি সিরিজও শুরু হয়েছে ৩২ রানের পরাজয় দিয়ে। অর্থাৎ তিন সংস্করণের ক্রিকেটেই প্রতিপক্ষের চেয়ে স্পষ্টভাবে পিছিয়ে রয়েছে বাংলাদেশ।
এক সময় জিম্বাবুয়েকে বাংলাদেশের তুলনামূলক সহজ প্রতিপক্ষ হিসেবে বিবেচনা করা হতো। বিশেষ করে গত এক দশকে দুই দলের শক্তির পার্থক্য ছিল চোখে পড়ার মতো। কিন্তু এবার সেই ধারণা বদলে দিয়েছে স্বাগতিকরা। শুধু ম্যাচ জেতাই নয়, ব্যাটিং, বোলিং ও ফিল্ডিং—প্রায় প্রতিটি বিভাগেই তারা বাংলাদেশকে ছাপিয়ে গেছে।
টেস্টে দুই ইনিংসেই ব্যাটিং ধসে পড়ে বাংলাদেশের। বোলাররা প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলতে পারেননি, ব্যাটাররাও বড় জুটি গড়তে ব্যর্থ হয়েছেন। ফলাফল—ইনিংস ব্যবধানে লজ্জাজনক হার।
ওয়ানডে সিরিজেও একই চিত্র। প্রথম ম্যাচে মাত্র ১৪২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমেও ২৫ রানে হারে বাংলাদেশ। দ্বিতীয় ম্যাচে ২৪৮ রানের লক্ষ্য ছুঁতে গিয়ে ১৩ রানের পরাজয়ে সিরিজ হাতছাড়া হয়। শেষ ম্যাচ জিতে হোয়াইটওয়াশ এড়ানো গেলেও তাতে সিরিজ হারের হতাশা কমেনি। উপরন্তু, সেই ম্যাচে নিজেদের সেরা তিন বোলারকে বিশ্রাম দিয়েছিল স্বাগতিক জিম্বাবুয়ে।
অথচ এই দলটিই ঘরের মাঠে সর্বশেষ ওয়ানডে সিরিজে র্যাঙ্কিংয়ের তিন নম্বরে থাকা অস্ট্রেলিয়াকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়েছিল। অস্ট্রেলিয়া অল্পের জন্য হোয়াইটওয়াশ এড়ায়। এর আগে টেস্ট সিরিজে পাকিস্তানকেও হোয়াইটওয়াশ করেছিল জিম্বাবুয়ে।
টি-টোয়েন্টি সিরিজেও ইতিবাচক শুরু করতে পারেনি বাংলাদেশ। ১৭১ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ৩২ রানের ব্যবধানে হারতে হয়েছে। সিরিজে টিকে থাকতে আজ (১৭ জুলাই) দ্বিতীয় ম্যাচে জয়ের কোনো বিকল্প নেই। সফরের শেষ ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে ১৯ জুলাই।
সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, এই ব্যর্থতা অন্য সময় হলে দেশে তীব্র সমালোচনার জন্ম দিত। কিন্তু ফুটবল বিশ্বকাপের ডামাডোলে তা অনেকটাই চাপা পড়ে গেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে সংবাদমাধ্যম—সবখানেই এখন বিশ্বকাপের খবরই প্রাধান্য পাচ্ছে। ফলে বাংলাদেশের হতাশাজনক পারফরম্যান্স নিয়ে আলোচনা তুলনামূলকভাবে কম।
বাংলাদেশের এই ব্যর্থতার সবচেয়ে উদ্বেগজনক দিক হলো ব্যাটিংয়ে ধারাবাহিকতার অভাব, নতুন বলে দ্রুত উইকেট হারানো, মাঝের ওভারে রান তোলার গতি কমে যাওয়া এবং গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে বোলারদের ব্রেকথ্রু এনে দিতে না পারা। সব মিলিয়ে দলীয় পারফরম্যান্স প্রত্যাশার অনেক নিচে, যা ভবিষ্যতের জন্যও বড় প্রশ্নচিহ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।