অনলাইন নিউজ ডেস্ক
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক মুসলিম হলের এক শিক্ষার্থীকে হল প্রাধ্যক্ষের কক্ষে আটকে রেখে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন, ভয়ভীতি প্রদর্শন, মুঠোফোন কেড়ে নেওয়া এবং জোরপূর্বক লিখিত বক্তব্যে স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। একই ঘটনায় প্রতিবাদী শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের হামলার অভিযোগও করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)।
এসব অভিযোগের নিন্দা জানিয়ে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে ডাকসু।
সোমবার (১৭ আগস্ট) ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক এস এম ফরহাদ স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এসব দাবি জানানো হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, হলের বিভিন্ন অনিয়ম নিয়ে সমালোচনা করায় ফজলুল হক মুসলিম হলের শিক্ষার্থী মো. ইব্রাহিমকে প্রাধ্যক্ষের কক্ষে আটকে রেখে প্রাধ্যক্ষ ইলিয়াস আল মামুন শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং তাঁর মুঠোফোন কেড়ে নেন বলে অভিযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে তাঁর কাছ থেকে জোরপূর্বক লিখিত বক্তব্যে স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়।
ডাকসুর দাবি, অভিযোগগুলো সত্য হলে তা শুধু ক্ষমতার অপব্যবহার নয়; বরং শিক্ষার্থীর মৌলিক অধিকার, মর্যাদা ও নিরাপত্তার ওপর গুরুতর আঘাত। কোনো প্রশাসনিক পদ ব্যবহার করে শিক্ষার্থীকে নির্যাতন, ভয়ভীতি প্রদর্শন কিংবা ভিন্নমত দমনের সুযোগ নেই।
ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশের পাশাপাশি তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্ত প্রাধ্যক্ষকে দায়িত্ব থেকে বিরত রাখার দাবি জানিয়েছে ডাকসু।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, শিক্ষার্থীরা প্রাধ্যক্ষের পদত্যাগ এবং ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশের দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে তাঁর কার্যালয়ের সামনে অবস্থান করছিলেন। এ সময় গভীর রাতে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা মিছিল নিয়ে সেখানে এসে শিক্ষার্থী ও নির্বাচিত প্রতিনিধিদের ওপর হামলা চালান বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরে বলপ্রয়োগের মাধ্যমে প্রাধ্যক্ষকে সেখান থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়।
ডাকসুর ভাষ্য অনুযায়ী, ওই হামলায় ফজলুল হক মুসলিম হল সংসদের ভিপি খন্দকার মো. আবু নাঈম, জিএস ইমামুল হাসানসহ প্রায় ১০ জন শিক্ষার্থী আহত হন।
ডাকসু বলেছে, শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করে একজন অভিযুক্ত প্রাধ্যক্ষকে নিরাপত্তা দিয়ে সরিয়ে নেওয়া কোনোভাবেই গণতান্ত্রিক ছাত্ররাজনীতির উদাহরণ হতে পারে না। রাজনৈতিক পরিচয় কাউকে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা, ভয়ভীতি প্রদর্শন বা প্রশাসনিক সংকটে বলপ্রয়োগের বৈধতা দিতে পারে না।
বিবৃতিতে হামলায় জড়িতদের রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা না করে সিসিটিভি ফুটেজ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্যের ভিত্তিতে শনাক্ত করে শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানানো হয়েছে। পাশাপাশি বলপ্রয়োগের মাধ্যমে প্রাধ্যক্ষকে সরিয়ে নেওয়ার ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ভূমিকা ও দায়ও নিরপেক্ষ তদন্তের আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছে ডাকসু।
ডাকসু আরও অভিযোগ করেছে, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এর আগে শাহবাগ থানার ভেতরে শিক্ষার্থী, ডাকসু নেতা ও সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় তিন কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত শেষ করার ঘোষণা দেওয়া হলেও দৃশ্যমান কোনো বিচার হয়নি। একইভাবে কুদরত-ই-খোদা হোস্টেলে গেস্টরুম ও র্যাগিংয়ের অভিযোগে রাজনৈতিক দলের কর্মীদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠলেও সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ করা হয়নি বলে দাবি করেছে সংগঠনটি।
ডাকসুর মতে, রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে বিচারপ্রক্রিয়ায় ভিন্ন মানদণ্ড তৈরি হলে তা বিশ্ববিদ্যালয়ে দায়মুক্তির সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা করবে। এর ফলে পেশিশক্তি ও সহিংসতার পুনরাবৃত্তি বাড়বে এবং ক্যাম্পাসে আইনের শাসন, ন্যায়বিচার ও গণতান্ত্রিক জবাবদিহি আরও দুর্বল হবে।
এ অবস্থায় ফজলুল হক মুসলিম হলের ঘটনাসহ সংশ্লিষ্ট অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত, সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে জড়িতদের রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা না করে শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে ডাকসু।