
সিলেটের সাবেক মেয়র আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরীর বিরুদ্ধে আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিলে নেতৃত্ব দিতে দেখা গেছে বঙ্গবন্ধু পেশাজীবী পরিষদ সিলেট জেলার সাবেক জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং বর্তমানে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর জাতীয় শ্রম শক্তির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য শিব্বির আহমদকে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া তার পুরনো ছবিগুলোতে আনোয়ারুজ্জামানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের দৃশ্য পাওয়া যাওয়ায় বিষয়টি নিয়ে জনমনে সমালোচনা তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, ৫ আগস্ট পর্যন্ত শিব্বির আহমদ আওয়ামী লীগ-ঘনিষ্ঠ বঙ্গবন্ধু পেশাজীবী পরিষদের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে নিয়মিত সক্রিয় ছিলেন। এমনকি সিলেট সিটি করপোরেশনে চাকরি পাওয়ার ক্ষেত্রেও তিনি আওয়ামী রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করেছেন—এমন অভিযোগও রয়েছে। তবে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর তিনি হঠাৎ করেই এনসিপিতে যোগ দেন এবং দ্রুতই দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে জায়গা করে নেন।
দলবদলের পর থেকেই তাকে ডিসি অফিস, সিটি করপোরেশনসহ বিভিন্ন সরকারি অনুষ্ঠানে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতা হিসেবে দেখা যাচ্ছে। সংগঠনের ভেতরেও এ নিয়ে নীরব অসন্তোষ রয়েছে বলে সূত্র জানিয়েছে।
রোববার বিকেলে পূর্ব জিন্দাবাজার থেকে ‘সিলেটবাসী’ ব্যানারে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। চৌহাট্টা কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে গিয়ে মিছিলটি শেষ হয়। মিছিলে উত্তেজনাপূর্ণ স্লোগান—“একটা একটা লীগ ধর, ধইরা ধইরা জবাই কর”, “জ্বালো জ্বালো, আগুন জ্বালো”, “অ্যাকশন অ্যাকশন, ডাইরেক্ট অ্যাকশন”—সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
বিক্ষোভকারীদের দাবি, আগের রাতে সিলেটে দুটি গাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনার সঙ্গে নিষিদ্ধপ্রাপ্ত আওয়ামী লীগের শাটডাউন কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সাবেক মেয়র আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরীর “উস্কানি” থাকতে পারে।
অন্যদিকে শিব্বির আহমদের অতীত আওয়ামী-ঘনিষ্ঠ কর্মকাণ্ড এবং দলবদলের পরপরই আনোয়ারুজ্জামানের বিরুদ্ধেই মিছিলে নেতৃত্ব দেওয়া—এ নিয়ে সমালোচনার ঝড় উঠেছে অনলাইনে।
বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে শিব্বির আহমদ নগর সমাচার ২৪-কে বলেন, “আমি সাংস্কৃতিক কর্মী। বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানেই ছবি তুলেছি।” তবে আওয়ামী লীগ–সংলগ্ন ব্যানারের পেছনের ছবির বিষয়ে তিনি কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিতে পারেননি।