অনলাইন নিউজ ডেস্ক
শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলন অটোপাস, পরীক্ষা বাতিল কিংবা সরকার পতনের দাবিতে নয়; বরং বাস্তব সমস্যার সমাধানের দাবিতে—এমন মন্তব্য করেছেন এনসিপির নেতা নাসিরুদ্দিন পাটওয়ারী।
শুক্রবার (১৭ জুলাই) দিবাগত রাতে নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীরা অটোপাসের দাবি বা পরীক্ষা বাতিলের উদ্দেশ্যে রাজপথে নামেনি। তাদের আন্দোলনের মূল লক্ষ্য হলো বন্যা, জলাবদ্ধতা ও চরম দুর্ভোগের মধ্যে পরীক্ষাকেন্দ্রে যেতে বাধ্য না হওয়া এবং বারবার পরিবর্তিত পরীক্ষা-পদ্ধতির পরীক্ষামূলক প্রয়োগের ‘গিনিপিগ’ না হওয়া। তাঁর ভাষায়, এটি একটি যৌক্তিক, মানবিক ও ন্যায্য আন্দোলন।
নাসিরুদ্দিন পাটওয়ারীর দাবি, শিক্ষার্থীরা সরকার পতনের কোনো আন্দোলনে অংশ নেয়নি। তবে কিছু রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তি দায়িত্বহীন বক্তব্যের মাধ্যমে আন্দোলনকে রাজনৈতিক রূপ দেওয়ার চেষ্টা করছেন। এর ফলে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে হামলা, গ্রেপ্তার, হয়রানি ও ভয়ভীতির পরিবেশ তৈরি হচ্ছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, বিভিন্ন শিক্ষার্থীর কাছ থেকে এমন অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে যে তাদের ফোনে যোগাযোগ করা হচ্ছে এবং ডিবি পরিচয়ে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এসব অভিযোগ সত্য হলে তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের জন্য লজ্জাজনক বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের ভয়ভীতি প্রদর্শন, গ্রেপ্তারের হুমকি ও হয়রানি অবিলম্বে বন্ধ করা উচিত। শক্তি প্রয়োগের পরিবর্তে সংলাপের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান খুঁজে বের করার আহ্বান জানিয়ে তিনি সরকারের প্রতি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বসে তাদের বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শোনা এবং যৌক্তিক দাবিগুলোর দ্রুত সমাধান করার অনুরোধ জানান।
তিনি বলেন, শিক্ষার্থীরা সন্ত্রাসী নয়। ভিন্নমত প্রকাশের কারণে তাদের রাজনৈতিক পরিচয়ের তকমা দিয়ে হেনস্তা করা কোনো সভ্য রাষ্ট্রের বৈশিষ্ট্য হতে পারে না।
শেষে নাসিরুদ্দিন পাটওয়ারী সরকারকে সংযম, সংলাপ ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়ে বলেন, সমাধানযোগ্য একটি সংকট যেন অপ্রয়োজনীয়ভাবে বৃহত্তর সামাজিক অস্থিরতায় রূপ না নেয়। একই সঙ্গে তিনি মন্তব্য করেন, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে নাগরিকের পরামর্শকে ‘উসকানি’ বা ‘রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র’ হিসেবে দেখার পরিবর্তে তা দায়িত্বশীল রাষ্ট্র পরিচালনার সহায়ক হিসেবে বিবেচনা করা উচিত।