অনলাইন নিউজ ডেস্ক
আগামী মাসের মধ্যেই ‘প্রবাসী কার্ড’-এর পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছে সরকার। প্রথম পর্যায়ে জনতা ব্যাংকের মাধ্যমে প্রবাসী ডেবিট কার্ড চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
শনিবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রবাসী কার্ড-সংক্রান্ত এক বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের উপ-প্রেস সচিব শাহাদাৎ স্বাধীন এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, প্রবাসীদের সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধি, ক্ষমতায়ন, আর্থিক প্রণোদনা প্রদান এবং ডুয়াল কারেন্সি কার্ডের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক লেনদেন ও আধুনিক ব্যাংকিং সুবিধা নিশ্চিত করাই এ উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য।
সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকারের অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড ও ক্রীড়া কার্ডের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় এবার চালু হচ্ছে প্রবাসী কার্ডের পরীক্ষামূলক প্রকল্প।
শাহাদাৎ স্বাধীন জানান, প্রবাসী কার্ডধারীরা দেশে ও বিদেশে বিভিন্ন বিশেষ সুবিধা পাবেন। এর মধ্যে রয়েছে—কমপ্লিমেন্টারি এয়ারপোর্ট লাউঞ্জ ব্যবহার, বিশেষ ইমিগ্রেশন বুথের মাধ্যমে দ্রুত সেবা, আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ‘মিট অ্যান্ড গ্রিট’ সুবিধা, বিমান টিকিট ও হোটেল বুকিংয়ে ছাড়, ন্যায্যমূল্যে গাড়ি বুকিং, সিগনেচার কার্ডধারীদের জন্য এয়ারপোর্ট পিক-আপ ও ড্রপ-অফ সেবা, সরকারি হাসপাতালে প্রবাসী সেবা বুথ এবং বেসরকারি হাসপাতালে বিশেষ ছাড়।
এ ছাড়া কার্ডধারীর মৃত্যু হলে বিনা খরচে মরদেহ দেশে আনা, প্রবাসফেরতদের পুনর্বাসন ও বীমা সুবিধা, জমি নিবন্ধন, নামজারি, ইউটিলিটি সংযোগ, লাইসেন্স এবং বৈদেশিক বিনিয়োগে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। পাশাপাশি রেমিট্যান্স রিওয়ার্ড পয়েন্ট, ক্রেডিট স্কোরিং ও ঋণ সুবিধা, কার্ডের মাধ্যমে সহজে অর্থ পাঠানো ও লেনদেন, এনআইডি, পাসপোর্ট ও কনস্যুলার সেবায় অগ্রাধিকার এবং ব্যাংক ও সরকার প্রদত্ত অন্যান্য সুবিধাও অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
উপ-প্রেস সচিব জানান, আগামী মাসের মাঝামাঝিতে প্রবাসী কার্ডের পরীক্ষামূলক উদ্বোধন করা হবে। প্রথম ধাপে জনতা ব্যাংকের মাধ্যমে কার্ড ইস্যু করা হবে। ডিসেম্বরের মধ্যে ৫০ হাজার এবং আগামী বছরের জুনের মধ্যে ২ লাখ প্রবাসী কার্ড বিতরণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, দ্বিতীয় পর্যায়ে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের মাধ্যমে প্রবাসী কার্ড-সংক্রান্ত সব কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষকে আরও আধুনিক ও সময়োপযোগী করার নির্দেশনা দেন। একই সঙ্গে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত সব বাংলাদেশি প্রবাসী যাতে পর্যায়ক্রমে প্রবাসী কার্ডের আওতায় আসতে পারেন, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ ও মাহদী আমিন, বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও প্রবাসী কল্যাণসচিব মোখতার আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী শাকিরুল ইসলাম খান, বিএমইটির মহাপরিচালক জামিল আহমেদসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।