দেশের প্রায় ১০ কোটি মানুষকে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বা পারিবারিক সুরক্ষা বলয়ের মধ্যে নিয়ে আসার পরিকল্পনা করছে সরকার। আগামী চার বছরের মধ্যে এই লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়ন করা হবে। এছাড়া, ২০২৭ সালের জুনের মধ্যে (আগামী অর্থবছর) প্রায় ৪০ লাখ ২০ হাজার পরিবারকে এই সুবিধার আওতায় আনার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
গত সোমবার (১৮ মে) রাজধানীর গুলশানের লেকশোর হোটেলে আয়োজিত ‘জাতীয় বাজেট ২০২৬-২৭: রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি ও নাগরিক প্রত্যাশা’ শীর্ষক সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সমাজকল্যাণমন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন এই তথ্য জানান। অনুষ্ঠানটি যৌথভাবে আয়োজন করে সিপিডি এবং এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফর্ম, বাংলাদেশ।
মন্ত্রী উল্লেখ করেন, এই কার্ডটি শুধু দরিদ্রদের জন্য নয়, বরং আর্থিকভাবে সচ্ছল ব্যক্তিরাও এটি পাবেন। তবে সচ্ছলদের ভাতার টাকা দরিদ্র মানুষের কল্যাণে ব্যয় করা হবে। একটি মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়েই সরকার কাজ করছে, যেখানে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী, নারী, শিশু ও প্রতিবন্ধীদের জীবনমান উন্নয়ন করা সম্ভব হবে।
সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিকে আরও আধুনিক ও ডিজিটাল করতে এই ফ্যামিলি কার্ডে এনআইডি (NID) ভিত্তিক তথ্য, কিউআর কোড, বারকোড এবং এনএফসি (NFC) প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে। এর ফলে একজন নাগরিকের সব ধরনের সামাজিক সেবা একটিমাত্র কার্ডের মাধ্যমেই দেওয়া সম্ভব হবে।
দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের পরিবারগুলো সঠিকভাবে চিহ্নিত করতে মাঠ পর্যায়ে ঘরে ঘরে গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। ইউনিয়ন পর্যায়ের শিক্ষক, সরকারি কর্মচারী, স্বাস্থ্য ও কৃষি কর্মকর্তা এবং সমাজসেবা কর্মীরা এই তথ্য যাচাই-বাছাইয়ের কাজ করছেন। মন্ত্রী জানান, ডিজিটাল পদ্ধতিতে এই তথ্য সংগ্রহের কারণে ভুলের হার মাত্র ২ থেকে ৩ শতাংশে নেমে এসেছে।
উক্ত সংলাপটি সঞ্চালনা করেন নাগরিক প্ল্যাটফর্মের আহ্বায়ক ও সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পরিষদের সদস্য মোহাম্মদ সাইফুল আলম খান, সিপিডির ফেলো অধ্যাপক মুস্তাফিজুর রহমান, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক শারমিন্দ নীলোর্মি এবং বিআইডিএস-এর মহাপরিচালক ড. এ কে এনামুল হকসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।