বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী মির্জা আব্বাস বলেছেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও আপসহীন নেত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার দেখানো পথ অনুসরণ করেই বিএনপি বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর আইডিইবি ভবনে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তমের ৯০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
মির্জা আব্বাস বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান যদি স্বাধীনতার ঘোষণা না দিতেন এবং মুক্তিযুদ্ধে সরাসরি অংশগ্রহণ না করতেন, তাহলে বাংলাদেশ স্বাধীন হতো না। তিনি শুধু স্বাধীনতার ঘোষকই নন, একজন সম্মুখযোদ্ধা হিসেবেও যুদ্ধ করেছেন।
তিনি বলেন, আপসহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া দীর্ঘ সময় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দেশের গণতন্ত্র রক্ষায় সংগ্রাম করেছেন। গত চার দশকের বেশি সময়ে বাংলাদেশ দুইজন মহান রাষ্ট্রনায়ককে হারিয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে ‘ক্রান্তিকাল’ উল্লেখ করে মির্জা আব্বাস বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে দলকে এই সংকটময় সময় অতিক্রম করতে হবে।
নির্বাচন প্রসঙ্গে শঙ্কা প্রকাশ করে তিনি বলেন, আসন্ন নির্বাচনে একটি রাজনৈতিক দল ও তাদের সহযোগী শক্তি নির্বাচন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে কিছু আসন দখলের চেষ্টা করছে। সরকারের উচ্চপর্যায়ের ব্যক্তিদের সঙ্গে বৈঠক করে তারা বিএনপিকে ক্ষমতায় আসা থেকে বিরত রাখার পরিকল্পনা করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
মির্জা আব্বাস বলেন, এসব দলের নির্বাচনী প্রচারণা দুর্বল হলেও তারা ক্ষমতায় যাওয়ার হুংকার দিচ্ছে, যা নির্বাচন ইঞ্জিনিয়ারিং ছাড়া সম্ভব নয়। এ বিষয়ে বিএনপির নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
সভায় উপস্থিত বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক নজরুল ইসলাম খান ও মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি বিষয়টি অবহেলা না করে গুরুত্ব দিয়ে দেখার অনুরোধ জানান।
তিনি বলেন, স্লোগান দেওয়া সহজ হলেও নির্বাচনে জয়লাভ করা কঠিন। দীর্ঘদিন নির্বাচনী চর্চা না থাকায় কিছু দুর্বলতা থাকতে পারে উল্লেখ করে তিনি নেতাকর্মীদের ঘরে ঘরে গিয়ে প্রচারণা চালানোর ওপর গুরুত্ব দেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিএনপির বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন মির্জা আব্বাস। তিনি বলেন, দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষায় বিএনপি এ পর্যন্ত প্রায় ছয় হাজার নেতাকর্মীকে বহিষ্কার করেছে।
তিনি আরও বলেন, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বিএনপি জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত কাজ করে যাবে এবং এই দেশকে কোনো প্রতারক, ধান্দাবাজ কিংবা অপশক্তির হাতে তুলে দেওয়া হবে না।
আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এছাড়া বক্তব্য দেন স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, ড. আব্দুল মঈন খান, সেলিমা রহমান, ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলালসহ দলের শীর্ষ নেতারা।