অনলাইন নিউজ ডেস্ক
প্রধানমন্ত্রীর আয়োজিত শরিক দল ও সমমনা জোটের নেতাদের নৈশভোজ ও সৌজন্য বৈঠকে অংশ নেয়নি জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ এবং আ স ম আবদুর রবের নেতৃত্বাধীন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি-রব)।
সরকার গঠনের প্রায় পাঁচ মাস পর সোমবার (২০ জুলাই) সন্ধ্যায় রাজধানীর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় শরিক দল ও সমমনা জোটের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এ উপলক্ষে বিএনপির পক্ষ থেকে শরিক দলগুলোর শীর্ষ নেতাদের আগেই আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণপত্র পাঠানো হয়েছিল।
জানা গেছে, বৈঠকে অংশ নেওয়ার জন্য জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের সভাপতি মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক এবং মহাসচিব মাওলানা মঞ্জরুল ইসলাম আফেন্দীকে আমন্ত্রণ জানানো হয়। তবে তাদের কেউই অনুষ্ঠানে উপস্থিত হননি। দলের পক্ষ থেকেও কোনো প্রতিনিধি অংশ নেননি।
এ বিষয়ে জমিয়তের মহাসচিব মাওলানা মঞ্জরুল ইসলাম আফেন্দী বলেন, আমন্ত্রণ পেলেও দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তারা অনুষ্ঠানে অংশ নেননি।
বৈঠকে অনুপস্থিতি রাজনৈতিক জোট ছাড়ার কোনো ইঙ্গিত কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ সিদ্ধান্তের সঙ্গে জোট ত্যাগের কোনো সম্পর্ক নেই। তবে বর্তমানে জোট যে কাঠামো ও কার্যক্রমে থাকার কথা, বাস্তবে তা নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
জমিয়তের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা বাহাউদ্দীন যাকারিয়াও জানান, কেন্দ্রীয় কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দলের কোনো প্রতিনিধি প্রধানমন্ত্রীর নৈশভোজে অংশ নেননি।
অন্যদিকে, জেএসডির সাধারণ সম্পাদক শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন জানান, তাদের দলও প্রধানমন্ত্রীর নৈশভোজে অংশ নেয়নি। বিষয়টি বিএনপিকে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠির মাধ্যমে জানানো হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
এর আগে এক সাক্ষাৎকারে জমিয়তের সভাপতি মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক অভিযোগ করেছিলেন, নির্বাচনের পর বিএনপির পক্ষ থেকে তাদের সঙ্গে কোনো রাজনৈতিক যোগাযোগ বা আনুষ্ঠানিক বৈঠক হয়নি। তার ভাষায়, শরিক দল হিসেবে জমিয়তকে উপেক্ষা করা হয়েছে।
জমিয়ত ও জেএসডির বৈঠকে অনুপস্থিতিকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে দুই দলের নেতারাই জানিয়েছেন, বৈঠকে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্তকে জোট ত্যাগের ইঙ্গিত হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।