ফুটবল বিশ্বকাপের উন্মাদনায় যখন মেতেছে পুরো ফুটবল বিশ্ব, তখন আর্জেন্টিনার সান্তা ফে অঞ্চলের ফুটবল অঙ্গনে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। স্ট্রোকের পর প্রায় ২০ দিন নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে শেষ পর্যন্ত মারা গেছেন কোলন দে সান জাস্তো ক্লাবের তরুণ ফুটবলার লাউতারো ফাজিওলি। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল মাত্র ২২ বছর।
গত ১ জুন নিজ বাড়িতে হঠাৎ অজ্ঞান হয়ে পড়েন ফাজিওলি। এর মাত্র এক দিন আগে তিনি সান্তা ফে কাপের ম্যাচে মাঠে নেমেছিলেন। দ্রুত তাঁকে হোসে মারিয়া কালেন হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও চিকিৎসকদের সব চেষ্টা ব্যর্থ করে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
ফাজিওলির মৃত্যুর খবরে গভীর শোক প্রকাশ করেছে তাঁর ক্লাব কোলন দে সান জাস্তো। এক বিবৃতিতে ক্লাবটি জানিয়েছে, ‘আমাদের প্রথম বিভাগের ফুটবলার লাউতারো ফাজিওলির মৃত্যুতে আমরা গভীরভাবে শোকাহত। তাঁর পরিবার ও বন্ধুদের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানাচ্ছি।’
তাঁর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে সপ্তাহজুড়ে ক্লাবের সব ধরনের কার্যক্রম স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সান্তা ফে কাপের তৃতীয় রাউন্ডের ম্যাচেও অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত।
এক বছর বয়সী এক কন্যাসন্তানের বাবা ছিলেন ফাজিওলি। তাঁর অসুস্থতা ছিল একেবারেই আকস্মিক। সেন্ট্রাল সান কার্লোসের বিপক্ষে যে ম্যাচটি তিনি খেলেছিলেন, সেখানে তাঁর মধ্যে কোনো ধরনের শারীরিক সমস্যার লক্ষণ দেখা যায়নি।
ক্লাবের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য হোসে লুইস রেপেতো বলেন, ‘সোমবার সকালে প্রথম কিছুটা অসুস্থ বোধ করে সে। অথচ আগের দিনের ম্যাচে তার মধ্যে কোনো অসুস্থতার লক্ষণ দেখা যায়নি। বরং দল পরের রাউন্ডে ওঠার পর সতীর্থ ও কোচিং স্টাফদের সঙ্গে জয়ের আনন্দ উদ্যাপন করেছিল।’
তরুণ এই ফুটবলারের অকাল মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছে সান্তা ফে ফুটবল লিগও। এক বিবৃতিতে তারা জানিয়েছে, ‘আমাদের ফুটবল পরিবারের সদস্য লাউতারোর মৃত্যুতে আমরা গভীরভাবে শোকাহত। তাঁর পরিবার, বন্ধু ও ক্লাবের প্রতি সমবেদনা জানাই।’
কয়েক দিন আগেও যিনি সতীর্থদের সঙ্গে জয়ের আনন্দ ভাগ করে নিয়েছিলেন, সেই লাউতারো ফাজিওলিকে এখন স্মরণ করছে আর্জেন্টিনার ফুটবল অঙ্গন।