অনলাইন নিউজ ডেস্ক
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে নোয়াখালী-৬ আসনের সংসদ সদস্য ও এনসিপি নেতা আব্দুল হান্নান মাসউদের বক্তব্যকে কেন্দ্র করে রোববার (২১ জুন) জাতীয় সংসদে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এ সময় সরকার ও বিরোধী দলের সদস্যদের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক এবং বাকবিতণ্ডা দেখা যায়।
সংসদে বক্তব্য দিতে গিয়ে হান্নান মাসউদ বলেন, প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন জনসভা ও ভাষণে বিরোধী দলকে নিয়ে অসত্য তথ্য উপস্থাপন করছেন। তিনি অভিযোগ করেন, মদের ও সিগারেটের দাম বৃদ্ধি নিয়ে বিরোধী দলের অবস্থান সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী যে মন্তব্য করেছেন, তা বাস্তবতার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।
তিনি আরও বলেন, ঋণখেলাপি ও ব্যাংক খাতের বিভিন্ন অনিয়ম নিয়ে সংসদে আলোচনা করতে গেলে প্রধানমন্ত্রীর কিছু বক্তব্য ঋণখেলাপিদের উৎসাহিত করার মতো বার্তা দেয়।
হান্নান মাসউদের বক্তব্যের পর পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে বিএনপির সংসদ সদস্য জয়নুল আবেদীন ফারুক এর প্রতিবাদ জানান। তিনি বলেন, সংসদ নেতাকে নিয়ে অসত্য বা সম্মানহানিকর কোনো বক্তব্য দেওয়া উচিত নয় এবং এ ধরনের মন্তব্যে তারা ক্ষুব্ধ।
ফারুক বলেন, প্রধানমন্ত্রী গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন এবং তার সম্পর্কে ভিত্তিহীন মন্তব্য গ্রহণযোগ্য নয়।
এর জবাবে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেন, হান্নান মাসউদের বক্তব্যে কোন অংশটি অসত্য ছিল, তা স্পষ্ট করা হয়নি। তিনি বলেন, সংসদ নেতার বক্তব্যের সমালোচনা করার অধিকার বিরোধী দলের রয়েছে এবং গণতান্ত্রিক চর্চার স্বার্থে সেই সুযোগ থাকা উচিত।
নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, সমালোচনা ও মতভিন্নতাকে অগণতান্ত্রিক হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। গণতন্ত্রে ভিন্নমত প্রকাশের অধিকারকে সম্মান জানাতে হবে।
পরে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে হান্নান মাসউদের বক্তব্যের বিতর্কিত অংশ সংসদের কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়ার (এক্সপাঞ্জ) অনুরোধ জানান। তিনি বলেন, সংসদ নেতাকে নিয়ে অসত্য বক্তব্য সংসদে গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।
এ সময় বিএনপি ও জামায়াতের কয়েকজন সদস্যের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যখন হান্নান মাসউদ পুনরায় বক্তব্য দেওয়ার চেষ্টা করেন। তখন ডেপুটি স্পিকার তাকে থামিয়ে সংসদীয় রীতিনীতি মেনে চলার আহ্বান জানান।
ডেপুটি স্পিকার বলেন, সংসদে ইচ্ছেমতো দাঁড়িয়ে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ নেই। তিনি হান্নান মাসউদকে আসনে বসার নির্দেশ দিয়ে বলেন, জাতীয় সংসদ ও জনসমাবেশের মঞ্চ এক বিষয় নয়।
পরবর্তীতে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান পরিস্থিতি শান্ত করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, কোনো বক্তব্য সত্য না অসত্য—এ নিয়ে দীর্ঘ বিতর্কে গেলে তা সবার জন্য অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। তাই সংশ্লিষ্ট বিষয়টি নিয়ে আর আলোচনা না বাড়িয়ে তা উপেক্ষা করাই সংসদের জন্য কল্যাণকর হবে বলে তিনি মত দেন।