অনলাইন নিউজ ডেস্ক
জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ডা. জুবাইদা রহমান বলেছেন, রাজধানীর উত্তরার মাইলস্টোন ট্র্যাজেডিতে আহত ব্যক্তি ও তাদের পরিবারের সাহস, ধৈর্য ও দৃঢ়তা দেশ ও জাতির জন্য চিরকাল অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে সবসময় থাকার আশ্বাসও দেন।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) রাজধানীর জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে আয়োজিত ‘২১ জুলাই মাইলস্টোন ট্র্যাজেডি’ উপলক্ষে শ্রদ্ধাঞ্জলি ও স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. জুবাইদা রহমান দুর্ঘটনায় নিহত শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক ও অন্যান্যদের স্মরণ করে তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। তিনি বলেন, এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় পুরো জাতি শোকাহত এবং নিহতদের পরিবারের প্রতি দেশের মানুষের সমবেদনা রয়েছে।
তিনি বলেন, দুর্ঘটনায় আহত শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের অদম্য মনোবল জাতির জন্য বিরাট প্রেরণার উৎস। এত বড় বিপর্যয়ের পরও তারা যেভাবে সাহস ও দৃঢ়তার সঙ্গে এগিয়ে যাচ্ছেন, তা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অনুকরণীয় হয়ে থাকবে। এই সংকট থেকে অর্জিত মানবিকতা, আত্মত্যাগ ও দৃঢ়তা ভবিষ্যতের যেকোনো দুর্যোগ মোকাবিলায় জাতিকে পথ দেখাবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সংকটের সময়ে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়ানো বিভিন্ন সেবামূলক প্রতিষ্ঠান ও স্বেচ্ছাসেবীদের ভূয়সী প্রশংসা করেন ডা. জুবাইদা রহমান। তিনি ফায়ার সার্ভিস, ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব), জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন, জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের চিকিৎসক, নার্স, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের নিরলস সেবার জন্য কৃতজ্ঞতা জানান।
তিনি যুক্তরাজ্য, চীন, ভারত ও সিঙ্গাপুরসহ বন্ধুপ্রতীম দেশগুলোর সহযোগিতারও প্রশংসা করেন। তার ভাষায়, এই দুর্যোগে তাদের সহায়তা দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্ক ও বন্ধুত্বকে আরও সুদৃঢ় করেছে।
মানবিকতার অনন্য দৃষ্টান্তের কথা তুলে ধরে ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অন্যকে বাঁচানোর যে আত্মত্যাগ দেখা গেছে, তা ‘মানুষ মানুষের জন্য’—এই চেতনার এক উজ্জ্বল উদাহরণ। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর উদ্দেশে বলেন, এই কঠিন সময়ে যে সহায়তার হাত বাড়ানো হয়েছে, তা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
স্মরণসভায় মাইলস্টোন ট্র্যাজেডিতে নিহত শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক, সমন্বয়কারী, বিমান বাহিনীর সদস্য ও কর্মচারীদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত, স্বাস্থ্যসচিব কামরুজ্জামান চৌধুরী, ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার, আহত শিক্ষার্থী, বার্ন ইনস্টিটিউটের চিকিৎসক, বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।