সুইজারল্যান্ডের দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামে এক বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেন, “আমরা না থাকলে এখন তোমরা সবাই জার্মান ভাষায় কথা বলতে।”
বুধবার (২১ জানুয়ারি) বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, জার্মান ভাষা সুইজারল্যান্ডের চারটি সরকারি ভাষার মধ্যে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হলেও ট্রাম্পের এই মন্তব্য ইউরোপের বিভিন্ন রাজধানীতে—বিশেষ করে ব্রাসেলস, বার্লিন ও প্যারিসে—অপমানজনক, আধিপত্যবাদী এবং তথ্যগতভাবে ভুল বলে বিবেচিত হচ্ছে।
ভাষণে ট্রাম্প আবারও দাবি করেন, ইউরোপ ভুল পথে এগোচ্ছে—যা তিনি আগেও একাধিকবার বলেছেন। তবে ইউরোপের মাটিতে দাঁড়িয়ে মিত্র দেশগুলোর সামনে এমন বক্তব্য দেওয়ায় এর প্রতিক্রিয়া আরও তীব্র হতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
ফোরাম শেষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাম্প জানান, ইউরোপের আটটি দেশের ওপর আরোপের হুমকি দেওয়া নতুন শুল্ক তিনি প্রত্যাহার করছেন। একই সঙ্গে তিনি বলেন, ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুটের সঙ্গে বৈঠকের পর গ্রিনল্যান্ড ও পুরো আর্কটিক অঞ্চল নিয়ে একটি ‘চুক্তির কাঠামো’ তৈরি হয়েছে। তবে বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই পরিকল্পনা কীভাবে গ্রিনল্যান্ডের ওপর সরাসরি মালিকানার ট্রাম্পের আকাঙ্ক্ষা পূরণ করবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তার প্রস্তাবিত ১০ শতাংশ শুল্ক ১ ফেব্রুয়ারি থেকে কার্যকর হওয়ার কথা ছিল।
ডেনমার্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লার্স লক্কে রাসমুসেন কোপেনহেগেনে সাংবাদিকদের বলেন, এই ভাষণের মাধ্যমে পরিষ্কার হয়েছে যে ট্রাম্পের উচ্চাকাঙ্ক্ষা এখনও অটুট। তিনি সামরিক শক্তি ব্যবহার না করার বক্তব্যকে ইতিবাচক বললেও সামগ্রিকভাবে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
ন্যাটোর এক মুখপাত্র জানান, ডেনমার্ক, গ্রিনল্যান্ড ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আলোচনা চলবে। আলোচনার লক্ষ্য হবে গ্রিনল্যান্ডে রাশিয়া ও চীনের কোনো ধরনের অর্থনৈতিক বা সামরিক উপস্থিতি ঠেকানো। তবে আলোচনার সময়সূচি বা স্থান এখনও নির্ধারিত হয়নি। ট্রাম্প জানিয়েছেন, এই আলোচনায় ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ও দূত স্টিভ উইটকফ অংশ নেবেন।
এর আগে দাভোসে দেওয়া ভাষণে ট্রাম্প বলেন, গ্রিনল্যান্ড নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র কোনোভাবেই সামরিক শক্তি ব্যবহার করবে না। তিনি বলেন, “অনেকে মনে করেছিল আমি শক্তি প্রয়োগ করব, কিন্তু আমি তা করব না। আমি বলপ্রয়োগ চাই না।”
ট্রাম্পের এই অবস্থান পরিবর্তনের পর যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। ওয়াল স্ট্রিটে এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচক দুই মাসের মধ্যে সবচেয়ে বড় একদিনের উত্থান রেকর্ড করেছে। তবে ইউরোপীয় কূটনীতিকদের মতে, ট্রাম্পের সুর কিছুটা নরম হলেও গ্রিনল্যান্ডের মালিকানা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে মূল বিরোধ এখনও মীমাংসিত হয়নি। গ্রিনল্যান্ড সরকার এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি।