অনলাইন নিউজ ডেস্ক
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ব্যক্তিগত আক্রোশ বা প্রতিশোধ নয়, বরং ধৈর্য ও দায়িত্বশীলতার মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নিতে হবে। তিনি বলেন, ক্ষমতায় থেকেও প্রতিশোধপরায়ণ রাজনীতিতে বিশ্বাস করেন না, কারণ এতে দেশের বা জনগণের কোনো উপকার হয় না।
রোববার (২১ জুন) রাতে মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুর শহরে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অতীতে তার পরিবার নানা প্রতিকূল পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছে। তিনি একটি ঘটনার উল্লেখ করে বলেন, তার মা গুরুতর অসুস্থ থাকাকালে প্রয়োজনীয় অ্যাম্বুলেন্স সহায়তা পাওয়া যায়নি। তবে সেই অভিজ্ঞতা থেকে প্রতিশোধ নেওয়ার মানসিকতা তৈরি হয়নি।
তিনি বলেন, “আজ বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছে। আমি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে চাইলে ব্যক্তিগত ক্ষোভ থেকে প্রতিশোধ নিতে পারি। কিন্তু তাতে কোনো লাভ হবে না। দেশের জন্য কিংবা জনগণের জন্য এর কোনো ইতিবাচক ফল বয়ে আনবে না।”
বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, দেশের সামনে সম্ভাবনাময় ও উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ রয়েছে। তবে সেই লক্ষ্য অর্জনে সবাইকে কঠোর পরিশ্রম, ত্যাগ এবং ধৈর্যের পরিচয় দিতে হবে।
প্রবাসীদের অবদানের প্রশংসা করে তিনি বলেন, মালয়েশিয়ায় অবস্থানকালে তিনি সেখানকার পরিচ্ছন্ন পরিবেশ ও উন্নত অবকাঠামো প্রত্যক্ষ করেছেন। উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বাংলাদেশি সেখানে বিভিন্ন খাতে কাজ করছেন এবং দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখছেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, বিদেশে যে দক্ষতা ও দায়িত্বশীলতার পরিচয় বাংলাদেশিরা দিচ্ছেন, দেশে ফিরে কেন সেই একই মানসিকতা নিয়ে কাজ করা যাবে না।
নিজের রাজনৈতিক জীবনের নানা অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, গত এক যুগে তিনি ও তার পরিবার বিভিন্ন প্রতিকূলতা ও চাপের মধ্য দিয়ে গেছেন। এসব ঘটনার অনেক কিছুই জনগণ জানেন, আবার অনেক বিষয় সময়ের সঙ্গে আড়ালেও চলে গেছে।
তিনি বলেন, দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির জন্য সবাইকে ব্যক্তিগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে কাজ করতে হবে। শুধু নিজ নিজ দাবি-দাওয়া নিয়ে ব্যস্ত থাকলে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি সম্ভব নয়। দেশ সবার, তাই সম্মিলিতভাবে ধৈর্য ধরে এগিয়ে যেতে হবে।
প্রবাসী বাংলাদেশিদের উদ্দেশে তিনি দেশের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রায় আরও বেশি সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান।