অনলাইন নিউজ ডেস্ক
গাইবান্ধার সাঘাটায় ছাত্রশিবির নেতা সাইফুল্লাহ বারী হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় অভিযুক্তদের বাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে আশরাফ খন্দকার নামে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তবে মামলার প্রধান অভিযুক্তসহ অন্যরা এখনও পলাতক রয়েছেন।
রোববার (২১ জুন) সন্ধ্যায় উপজেলার বোনারপাড়া ইউনিয়নের বাটি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পরে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা প্রায় আড়াই ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, সাইফুল্লাহ হত্যার প্রতিবাদে সন্ধ্যায় স্থানীয় জামায়াত ও ছাত্রশিবিরের উদ্যোগে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলে নিহতের স্বজন ও বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসীও অংশ নেন। একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ জনতা অভিযুক্তদের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে।
সাঘাটা ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের কর্মকর্তা তোফাজ্জাল হোসেন জানান, খবর পেয়ে ২২ সদস্যের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে দীর্ঘ চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। আগুনে প্রায় সাড়ে ৮ লাখ টাকার সম্পদের ক্ষতি হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে প্রায় ১৫ লাখ টাকার সম্পদ রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে।
পুলিশ জানায়, হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে আশরাফ খন্দকার (৩৬) নামে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি বাটি গ্রামের বাসিন্দা। অন্য অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
নিহত সাইফুল্লাহ বারী বোনারপাড়া ইউনিয়ন ছাত্রশিবিরের সভাপতি ছিলেন। তিনি রংপুরের সাতগড়া মডেল কামিল মাদরাসার আল-কুরআন বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। একই ঘটনায় আহত জামায়াতকর্মী সালাউদ্দিন বর্তমানে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এদিকে হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে গাইবান্ধা জেলা শহরে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে ইসলামী ছাত্রশিবির। সংগঠনটি দ্রুত অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে। একই দাবিতে রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। এছাড়া সোমবার (২২ জুন) গাইবান্ধা পৌরপার্ক থেকে আরও একটি বিক্ষোভ কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
ঘটনার নিন্দা জানিয়ে গাইবান্ধা-৫ আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল ওয়ারেছ জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। গাইবান্ধা-২ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল করিমও পৃথক প্রতিক্রিয়ায় হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, রোববার বিকেলে কচুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটি-সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে বোনারপাড়া বাজার এলাকায় দুই পক্ষের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়। একপর্যায়ে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে সাইফুল্লাহ বারী গুরুতর আহত হন। পরে তাকে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। একই ঘটনায় আহত হন সালাউদ্দিন, যিনি বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।