অনলাইন নিউজ ডেস্ক
সিলেটের হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজারকে কেন্দ্র করে সাম্প্রতিক আলোচনা-সমালোচনার মধ্যে বক্তব্য দিয়েছেন ইসলামী বক্তা মুফতী মুহাম্মাদ গিয়াস উদ্দিন তাহেরী। তিনি মাজারের আয়-ব্যয়ের স্বচ্ছ হিসাব জনগণের সামনে উপস্থাপনের আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে মাজারের দানের অর্থ শিক্ষা ও জনকল্যাণমূলক কাজে ব্যয়ের প্রস্তাব দিয়েছেন।
সোমবার রাত ৮টার দিকে দেওয়া এক বিবৃতিতে গিয়াস উদ্দিন তাহেরী বলেন, আল্লাহর ওলিগণ ইসলামের ধারক ও বাহক। তাঁদের স্মৃতি ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ করা মুসলমানদের দায়িত্ব। মাজারে আগত ভক্তদের দান-অনুদান দীর্ঘদিনের প্রচলিত বিষয় এবং এসব অর্থ মাজারের রক্ষণাবেক্ষণ ও নিরাপত্তার কাজে ব্যয় হওয়া স্বাভাবিক।
তিনি বলেন, শাহজালাল (রহ.)-এর দরগাহ সিলেটের একটি গুরুত্বপূর্ণ আধ্যাত্মিক কেন্দ্র। মাজারের আয়-ব্যয়ের হিসাব চাওয়ার উদ্যোগকে তিনি স্বাগত জানান। তবে এ বিষয়ে জেলা প্রশাসনের আরও আলোচনা ও পর্যালোচনার প্রয়োজন ছিল বলে মন্তব্য করেন।
গিয়াস উদ্দিন তাহেরীর মতে, মাজার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে দানের অর্থের উৎস, ব্যয়ের খাত এবং যিয়ারতকারীদের সুবিধা বৃদ্ধির পরিকল্পনা নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে তা আরও ফলপ্রসূ হতো। তিনি নারী ও পুরুষের জন্য পৃথক নামাজের স্থান, বসার ব্যবস্থা, অজুখানা ও স্যানিটেশন সুবিধার উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বিবৃতিতে তিনি আরও বলেন, মাজারে আসা দানের অর্থের স্বচ্ছ হিসাব জনসমক্ষে প্রকাশ করা প্রয়োজন। পাশাপাশি এ অর্থ ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার না করে শিক্ষা ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে ব্যয় করা উচিত। তিনি মাজারসংলগ্ন একটি সুন্নী মাদরাসা ও ইয়াতিমখানা প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানান এবং দানের অর্থের একটি অংশ এ ধরনের প্রতিষ্ঠানের জন্য বরাদ্দ রাখার প্রস্তাব দেন।
গিয়াস উদ্দিন তাহেরী দাবি করেন, মাজার ও যিয়ারতকে কেন্দ্র করে বিভ্রান্তিকর প্রচারণা বন্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। ভবিষ্যতে মাজার ও ইসলামী ঐতিহ্য নিয়ে কোনো ষড়যন্ত্র হলে সুফীবাদী ও তরিকাপন্থী জনগণ তা প্রতিহত করবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
সম্প্রতি শাহজালাল (রহ.) মাজারের দান ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা-সমালোচনার পরিপ্রেক্ষিতে তিনি এ বক্তব্য দেন।