অনলাইন নিউজ ডেস্ক
পিরোজপুরের জিয়ানগর উপজেলায় মোবাইল গেম ‘ফ্রি ফায়ার’ খেলাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের জেরে রাকিব কাজী নামে এক যুবককে ছুরিকাঘাত করে গুরুতর আহত করার অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বিকেলে উপজেলার পত্তাশী ইউনিয়নের কাজীপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। বুধবার (২২ জুলাই) উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
আহত রাকিব কাজী উপজেলার পত্তাশী ইউনিয়নের চরনী পত্তাশী গ্রামের মৃত আকরাম কাজীর ছেলে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, মঙ্গলবার বিকেলে আকরাম কাজীর দোকানের সামনে রাকিব কাজী, অভিযুক্ত রাতুল মোল্লাসহ পাঁচ থেকে সাতজন একসঙ্গে ‘ফ্রি ফায়ার’ গেম খেলছিলেন। খেলার একপর্যায়ে তাদের মধ্যে কথাকাটাকাটি শুরু হয়, যা পরে হাতাহাতিতে গড়ায়। উপস্থিত অন্যরা তখন পরিস্থিতি শান্ত করেন।
ঘটনাস্থলে থাকা রিফাত কাজী বলেন, খেলার সময় যে বিরোধের সৃষ্টি হয়েছিল, সেটি তাৎক্ষণিকভাবে সবাই মিলে মীমাংসা করা হয়েছিল। পরে যা ঘটেছে, তা অত্যন্ত দুঃখজনক।
আহত রাকিব কাজীর অভিযোগ, রাতে প্রায় সাড়ে ৯টার দিকে রাতুল মোল্লা, তার বাবা মানিক মোল্লা, মা এবং চাচাতো ভাই বাপ্পি মোল্লা তাকে মারধর করতে আসেন। তিনি দাবি করেন, একপর্যায়ে রাতুল তাকে মারধর করেন এবং মানিক মোল্লা তার পেটে ছুরিকাঘাত করেন। হামলার সময় তার হাতে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয় এবং রাতুলের মা তাকে ধরে রাখেন। পরে তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। জ্ঞান ফিরলে নিজেকে হাসপাতালে দেখতে পান।
জিয়ানগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক আকাশ সাহা জানান, রাকিবের পেটে গুরুতর আঘাত রয়েছে। ক্ষত গভীর হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত রাতুল মোল্লার মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। ফোনে তার চাচাতো ভাই পরিচয় দেওয়া এক ব্যক্তি জানান, রাতুল ফোনের কাছে নেই। এরপর তিনি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
জিয়ানগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোহাব্বত খান বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেছে। আহত রাকিবের পরিবারের সদস্যরা মৌখিকভাবে অভিযোগ জানিয়েছেন। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।