বিশেষ প্রতিবেদক, সিলেট:
দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে সিলেটের ঐতিহ্যবাহী ইসলামপুর মোহাজির কলোনির ৫ একর জমি অবশেষে অবৈধ দখলদারদের হাত থেকে সম্পূর্ণ উদ্ধার করা হয়েছে। বাংলাদেশ সরকারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব)-এর এক ঐতিহাসিক রায়ের প্রেক্ষিতে এ উচ্ছেদ আদেশ বাস্তবায়িত হয়।
ঘটনার পটভূমি ও আইনি নথি
নথি সূত্রে জানা যায়, তৎকালীন ১৯৬৪-৬৫ সনে ৫০নং এল-এ (L.A) মামলার আওতায় কলোনির গৃহহীন মোহাজিরদের নামে জমিটি অধিগ্রহণ ও গেজেটভুক্ত করা হয়। পরবর্তীতে নামজারি খতিয়ানে এস.এ ১০৫১ নম্বর দাগে ১.৬৫ একর এবং এস.এ ১০৬০ নম্বর দাগে ৩.৩৫ একর—সর্বমোট ৫ একর ভূমি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রণালয়ের নামে চূড়ান্তভাবে রেকর্ডভুক্ত হয়।
তবে দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহল আইনি তোয়াক্কা না করে উক্ত মূল্যবান ভূমির একাংশ অবৈধভাবে জবরদখল করে রেখেছিল এবং সেখানে বাণিজ্যিক মার্কেটসহ বিভিন্ন স্থাপনা গড়ে তুলেছিল।
ঐতিহাসিক রায় ও উচ্ছেদ আদেশ
অভিযোগ ও সার্বিক তথ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা করে সিলেটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) প্রতিপক্ষ অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে "সরকারি ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষীয় ভূমি ও ইমারত (দখল ও পুনরুদ্ধার) আদেশ ১৯৭০"-এর সংশ্লিষ্ট বিধান অনুযায়ী উচ্ছেদ ও জমি পুনরুদ্ধারের সুস্পষ্ট নির্দেশ প্রদান করেন। এই আদেশের মধ্য দিয়েই দীর্ঘদিনের অবৈধ দখলের অবসান ঘটল।
স্থানীয়দের প্রতিক্রিয়া
উক্ত ঐতিহাসিক রায়ে দীর্ঘদিনের আইনি লড়াই ও অনিশ্চয়তা কেটে যাওয়ায় ইসলামপুর মোহাজির কলোনিজুড়ে আনন্দের জোয়ার বইছে। কলোনির প্রতিনিধি জনাব ইয়ানুর আলী সরদার গভীর সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, "এই রায় ন্যায়বিচারের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। দীর্ঘদিন পর আমরা আমাদের অধিকার ও সরকারি সম্পত্তি উদ্ধার হতে দেখলাম।" তিনি বর্তমান গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার, স্থানীয় প্রশাসন এবং বিচারব্যবস্থার প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানান।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, প্রশাসনের এই কঠোর ও আইনি পদক্ষেপের ফলে নগরীর অন্যান্য জবরদখলকৃত সরকারি সম্পত্তি উদ্ধারেও ইতিবাচক গতি আসবে।