অনলাইন নিউজ ডেস্ক
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান অভিযোগ করে বলেছেন, দেশে ক্ষমতার পরিবর্তন হলেও প্রত্যাশিত সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হয়নি। তাঁর দাবি, চাঁদাবাজি, দুর্নীতি ও দখলদারির মতো অপরাধ কমার পরিবর্তে আরও বেড়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সন্ধ্যায় লক্ষ্মীপুর শহরের দক্ষিণ তেমুহনী এলাকায় জেলা কার্যালয়ে আয়োজিত ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জেলা সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মাওলানা গাজী আতাউর রহমান বলেন, ২০২৪ সালের অভ্যুত্থানের পর মানুষের মধ্যে যে নতুন বাংলাদেশের প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে তার বাস্তব প্রতিফলন দেখা যায়নি। তিনি বলেন, দেশের মানুষ রাজনীতিতে গুণগত পরিবর্তন, সুশাসন, ন্যায়বিচার, ইনসাফ এবং বৈষম্যহীন সমাজব্যবস্থা প্রত্যাশা করেছিল। কিন্তু বাস্তবে সেই পরিবর্তন আসেনি।
অন্তর্বর্তী সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, সরকার সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল এবং একটি সংস্কার সনদও প্রণয়ন করা হয়েছিল, যাতে তাঁর দল স্বাক্ষর করেছে। তবে নির্বাচন শেষে সেই প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন দৃশ্যমান হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, ঘুষ-দুর্নীতি কমেনি, বরং দেশে চাঁদাবাজি আগের তুলনায় বেড়েছে।
জুলাই আন্দোলনের প্রসঙ্গ তুলে ইসলামী আন্দোলনের মহাসচিব বলেন, আন্দোলনে দলের নেতাকর্মীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অংশ নিয়েছিলেন এবং অনেকে প্রাণও দিয়েছেন। তবে যে লক্ষ্য ও আদর্শ সামনে রেখে সেই আন্দোলন হয়েছিল, তা এখনো বাস্তবায়িত হয়নি। তিনি বলেন, শুধু সরকার পরিবর্তন যথেষ্ট নয়; রাষ্ট্র পরিচালনায় আদর্শিক ও নীতিগত পরিবর্তনের পাশাপাশি সাংবিধানিক সংস্কারও প্রয়োজন।
জুলাই সনদের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ওই সনদে রাজনৈতিক দলগুলো স্বাক্ষর করেছে এবং গণভোটে জনগণ এর পক্ষে রায় দিয়েছে। তাই জনগণের সেই রায়ের প্রতি সম্মান দেখিয়ে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের আহ্বান জানান তিনি। অন্যথায় এর রাজনৈতিক পরিণতি শুভ হবে না বলেও মন্তব্য করেন।
লক্ষ্মীপুর জেলা শাখার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাওলানা মুহাম্মদ মহি উদ্দিনের সভাপতিত্বে সম্মেলনে প্রধান বক্তা ছিলেন দলের কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা আল্লামা খালেদ সাইফুল্লাহ।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কুমিল্লা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা নুরুল করীম আকরাম, কেন্দ্রীয় প্রশিক্ষণ সম্পাদক মুফতি শেখ মুহা. সাইফুল ইসলাম এবং লক্ষ্মীপুর-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মাওলানা হেলাল উদ্দিনসহ দলের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা।