অনলাইন নিউজ ডেস্ক
প্রযুক্তিগত শিক্ষার পাশাপাশি জাপানি ভাষা শিক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।
তিনি বলেছেন, বিশ্বের কৃষিনির্ভর দেশগুলোতে বাংলাদেশি দক্ষ জনশক্তির ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। তবে ভাষাগত দক্ষতার অভাবে অনেকেই এসব দেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হন। বিশেষ করে জাপানে দক্ষ শ্রমিকের চাহিদা থাকায় শিক্ষার্থীরা জাপানি ভাষা শিখলে ভবিষ্যতে তারা আরও বেশি উপকৃত হবে।
শনিবার (২৫ জুলাই) বিকেলে সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (সিকৃবি) ২০২৫-২০২৬ শিক্ষাবর্ষে স্নাতক (লেভেল-১, সেমিস্টার-১) প্রথম বর্ষে ভর্তি হওয়া নবীন শিক্ষার্থীদের ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সিকৃবির ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মো. আলিমুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিলেট-৬ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী এবং সিকৃবির সিন্ডিকেট সদস্য ও বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের সদস্য প্রফেসর ড. এ এস এম গোলাম হাফিজ কেনেডি।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন ওরিয়েন্টেশন বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি প্রফেসর ড. জসিম উদ্দিন আহাম্মদ।
সভাপতির বক্তব্যে সিকৃবির ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মো. আলিমুল ইসলাম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় জীবন শুধু পাঠ্যবইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি চরিত্র গঠন, নেতৃত্বের গুণাবলি অর্জন এবং ভবিষ্যৎ জীবনের ভিত্তি তৈরির গুরুত্বপূর্ণ সময়। বিশ্ববিদ্যালয়ের সুযোগ-সুবিধা কাজে লাগিয়ে শিক্ষার্থীদের এগিয়ে যেতে হবে।
তিনি বলেন, ক্যাম্পাসের নিয়ম-কানুন মেনে চলা শিক্ষার্থীদের নৈতিক দায়িত্ব। একটি শতভাগ র্যাগিংমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। দেশের বিপুল জনসংখ্যাকে দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত করতে শিক্ষার্থীদের প্রথাগত শিক্ষার পাশাপাশি কারিগরি দক্ষতা, সফট স্কিল, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডিজিটাল সাক্ষরতা ও শিল্পখাতের চাহিদাভিত্তিক জ্ঞান অর্জনের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সিলেট-৬ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী বলেন, শিক্ষা সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত খাতগুলোর একটি। শিক্ষার অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন শিক্ষা হাব হিসেবে প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, উন্নত দেশগুলোর মতো বাংলাদেশেও শিক্ষা খাত ভবিষ্যতে বড় ধরনের অর্থনৈতিক ও বৈশ্বিক সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে।
অন্য বিশেষ অতিথি প্রফেসর ড. এ এস এম গোলাম হাফিজ কেনেডি বলেন, শিক্ষার্থীদের ঘিরে প্রতিটি বাবা-মায়ের বড় স্বপ্ন রয়েছে। জীবন গড়ার এই সময়কে কাজে লাগিয়ে অপসংস্কৃতি ও অপরাজনীতি থেকে দূরে থেকে আত্মনির্ভরশীল হওয়ার লক্ষ্যে মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করতে হবে।
আলোচনা অনুষ্ঠান শেষে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় নবীন শিক্ষার্থীদের জন্য মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।