বারই ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জামায়াতে ইসলামীর সাথে আসন সমঝোতার আলোচনা করছে এনসিপি। এর মধ্যেই "দল ও বড় অংশের নেতারা ভুল পথে আছে" উল্লেখ করে এনসিপি থেকে পদত্যাগ করেছেন দলটির একজন কেন্দ্রীয় নেতা।
জামায়াতের সাথে নির্বাচনি সমঝোতায় গেলে দলটির কেন্দ্রীয় পর্যায়ের আরও কেউ কেউ পদত্যাগ করতে পারেন বলে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। ফলে প্রশ্ন উঠছে, সমঝোতার বিষয়ে দলের মধ্যে ঐকমত্য না থাকলেও এনসিপি কেন জামায়াতের দিকে ঝুঁকছে?
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অনেকে মনে করেন, রাজনীতিতে 'নতুন বন্দোবস্ত' আনার প্রতিশ্রুতি, ৩০০ আসনেই প্রার্থী দেওয়ার পরিকল্পনা, নির্বাচনে জয়ী হয়ে সরকার গঠনের মতো আত্মবিশ্বাস দেখানোর পরও শেষ পর্যন্ত কয়েকটি আসনের জন্য পুরোনো রাজনৈতিক শক্তির সঙ্গেই জোট বাঁধার আলোচনা এনসিপিকে একটি প্রশ্নবিদ্ধ জায়গায় ফেলে দিচ্ছে।
যদিও, এনসিপি নেতারা বলছেন, সমঝোতার বিষয়ে এখন পর্যন্ত কিছু চূড়ান্ত হয়নি। কয়েকটি দলের সাথেই তারা আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে সংস্কার প্রশ্নে জামায়াতের সাথে তাদের অবস্থানগত সামঞ্জস্য থাকার কারণে দলটির সাথে আসন সমঝোতার দিকে ঝুঁকছে এনসিপি।
তবে বিএনপির সঙ্গে আলোচনায় আসন সমঝোতা না হওয়াও দলটির জামায়াতের কাছে ঘেঁষার একটা কারণ বলে মনে করছেন অনেকে।
এদিকে, গণ-অভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশের রাজনীতিতে পরিবর্তনের যে প্রতিশ্রুতি এনসিপি দিয়েছিল, তার সঙ্গে দলটির কর্মকাণ্ডের কোনো মিল পাওয়া যাচ্ছে না বলেও মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। ফলে গতানুগতিক রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের কারণেও সমালোচনার মুখে পড়ছে দলটি।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, নির্বাচনী সমীকরণ থেকে ক্ষমতার রাজনীতিতে নিজেদের অবস্থান পোক্ত করতেই এনসিপি জামায়াতের দিকে ঝুঁকছে। তবে এই সিদ্ধান্ত দলটির জন্য কতটা হিতকর হবে সে সন্দেহও প্রকাশ করেছেন কেউ কেউ।