শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) আসনের নির্বাচনী ইশতেহার অনুষ্ঠান মঞ্চে চেয়ারের বসার বিষয়কে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে তুমুল সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয়পক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন এবং কয়েকটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়েছে। সংঘর্ষটি বুধবার (২৮ জানুয়ারি) দুপুরে উপজেলা মিনি স্টেডিয়াম মাঠে ঘটে।
উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয়রা জানান, ঝিনাইগাতী উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে পূর্বঘোষিত নির্বাচনী ইশতেহার অনুষ্ঠানের জন্য সকাল থেকেই বিভিন্ন দলের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা অনুষ্ঠানস্থলে হাজির হন। পরে অনুষ্ঠানস্থলে উপস্থিত হন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা আশরাফুল আলম রাসেল। তিনিসহ প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা মঞ্চে বসেন। তবে স্থানীয় বিএনপি ও জামায়াতের কয়েকজন কর্মী-সমর্থক সামনের সারির চেয়ারে বসতে না পেরে হট্টগোল শুরু করেন।
কথা-কাটাকাটির একপর্যায় সংঘর্ষে উভয়পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া শুরু হয়। মঞ্চের সামনে রাখা কয়েকশ চেয়ার ভাঙচুর করা হয়। আহতদের আশপাশের লোকজন উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। পুলিশ ও সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
বিএনপির প্রার্থী মাহমুদুল হক রুবেল অভিযোগ করেন, জামায়াতের নেতাকর্মীরা পরিকল্পিতভাবে হামলা চালিয়েছে এবং আমাদের দলের অনেক নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। অন্যদিকে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী নূরুজ্জামান বাদল বলেন, বিএনপি ও তাদের সমর্থকরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে হামলা চালিয়েছে এবং আমাদের অন্তত ১৫ জন কর্মী-সমর্থক আহত হয়েছেন। তারা প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু বিচার দাবি করছেন।
ঝিনাইগাতী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশরাফুল আলম রাসেল বলেন, বসাকে কেন্দ্র করে সামান্য ঝামেলা হয়েছে, যা নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। শেরপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান ভূঁঞা বলেন, পুলিশ ও সেনাবাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে এবং বর্তমানে সবকিছু স্বাভাবিক রয়েছে। এ ঘটনায় এখনো কোনো মামলা হয়নি; অভিযোগ পেলে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।