আশীষ দাশ গুপ্ত লাখাই প্রতিনিধি
হবিগঞ্জেরলাখাই উপজেলার ৪নং বামৈ ইউনিয়নে দিনভর লিফলেট বিতরণ, গণসংযোগ ও পথসভায় বক্তব্য রেখেছেন হবিগঞ্জ-৩ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী এবং বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক আলহাজ্ব জি কে গউছ।
তিনি মঙ্গলবার ২৭ জানুয়ারি সকাল থেকেই দিনভর দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে নির্বাচনী প্রচারনা শুরু করেন। পায়ে হেঁটে, মোটর সাইকেলে, গাড়িতে, চলেছেন অবিরাম। সময় হলেই দাঁড়িয়ে যাচ্ছেন নামাজে। ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে জানার চেষ্টা করছের তাদের সমস্যার কথা, দিচ্ছেন সমাধানের প্রতিশ্রুতি। তিনি বলেন- আগামী ১২ ফেব্রুয়ারী দেশের মানুষ ভোট কেন্দ্রে যাবে, নিজের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিবে, দেশে ভোটের উৎসব শুরু হয়েছে, এটাই ছিল বাংলাদেশের ভোটের ঐতিহ্য। কিন্তু বিগত ৩টি নির্বাচনে মানুষ ভোটের উৎসব দেখেনি। মানুষ ভোটের নামে প্রহসন দেখেছে, ভোট ডাকাতি দেখেছে, দিনের ভোট রাতে দেখেছে, আমি ডামি নির্বাচন দেখেছে।
জি কে গউছ বলেন- গত ১৭ বছর দেশের মালিকানা দেশের জনগণের নিকট ছিল না। ফ্যাসিষ্ট শেখ হাসিনা এবং আওয়ামীলীগ জোর করে, কৌশল করে, চক্রান্ত করে মানুষের সকল সাংবিধানিক অধিকার কেড়ে নিয়েছিল। মানুষ ভোট কেন্দ্রে যেতে পারে নাই। নিজের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেয়ার ব্যবস্থা’র কবর রচিত হয়েছিল। গত ৩টি নির্বাচনে আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরা একেকজন ৩/৪শ করে ভোট দিয়েছিল। তারা চায়ের স্টলে আড্ডায় গর্ব করে বীরত্ব প্রকাশ করতো কে কয়শ ভোট দিয়েছে। সেই দিন দেশের মানুষ ভয়ে প্রতিবাদ করার সাহস করেনি। কিন্তু নিজের দুঃখ নিজের অন্তরে চাপা দিয়ে রেখেছিল।
জি কে গউছ বলেন- গত ১৭ বছর বাংলাদেশে মানুষের কথা বলার অধিকার ছিল না। আওয়ামীলীগের দুঃশাসনের বিরুদ্ধে, জুলুম নির্যাতনের বিরুদ্ধে কেউ কথা বলতে পারেনি। যারাই প্রতিবাদ করেছে জেল জুলম, খুন গুম, মামলা হামলার শিকার হতে হয়েছে। কিন্তু আওয়ামীলীগের শেষ পরিণতি ভাল হয়নি। আওয়ামীলীগ এখন ঘর ছাড়া, বাড়ি ছাড়া, কেউ কেউ দেশ ছাড়া।
তিনি বলেন- কেউ কেউ বলে থাকেন, হাসিনা পালাইছে, আওয়ামীলীগ পালাইছে, আবু জাহিররা পালাইছে, তাহলে কার বিরুদ্ধে ভোট করব। আমরা ভোট করব ন্যায়ের পক্ষে, সত্যের পক্ষে, আমরা ভোট করব উন্নয়নের পক্ষে। আমরা বিশ্ববাসীকে দেখাতে চাই পরিবেশ ভাল থাকলে আমরা ভোট সেন্টারে গিয়ে ভোট দিতে জানি। তাই এবারের ভোটকে অবহেলা করা যাবে না, আমাদেরকে সকাল সকাল ভোট সেন্টারে যেতে হবে। সারাদেশে ধানের শীষের গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। ইনশাআল্লাহ, মানুষের ভালবাসায় সিক্ত হয়ে বিএনপি রাষ্ট্র ক্ষমতায় যাবে।
নির্বাচনী প্রচারণায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলা বিএনপির গোলাম কিবরিয়া চৌধুরী বেলাল, লাখাই উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি এডভোকেট আলহাজ্ব সালেহ উদ্দিন আহমেদ, লাখাই উপজেলা বিএনপির সহ সভাপতি শেখ ফরিদ মিয়া, এডভোকেট আয়াতুল ইসলাম, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ শাহ আলম গোলাপ, সাংগঠনিক সম্পাদক শামছুদ্দিন আহমেদ, মাহফুজুর রহমান চৌধুরী, মোহাম্মদ আলী, সারা উদ্দিন, তোফাজ্জুল হক, এস এম শাহজাহান, হাজী সালাউদ্দিন, কাউছার তালুকদার, মজনু মিয়া, উপজেলা যুবদলের আহবায়ক মাহমুদুল হাসান, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মাহবুব আলম মালু, যুগ্ম আহবায়ক তাউছ আহমেদ, আল আমিন ইসলাম অনিক, কে এম জিয়া, মোতাক্কির মিয়া, রাজিব মিয়া, সাইফুল ইসলাম নীরব, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব মিয়া মোঃ লায়েছ, উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ফজলে রাব্বী, শরীফ আহমেদ, সদস্য সচিব আহমেদ আজম, বাধন শরীফ, তোফাজ্জুল ইসলাম, হেলাল মিয়া প্রমুখ।