অনলাইন নিউজ ডেস্ক
চট্টগ্রামে শরীয়াহভিত্তিক পাঁচটি ব্যাংকের আমানতের ওপর “হেয়ারকাট” বা মুনাফা কর্তনের সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবিতে আমানতকারীরা বিক্ষোভ করেছেন।
সোমবার (২৯ জুন) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নগরের বাংলাদেশ ব্যাংক চট্টগ্রাম কার্যালয়ের সামনে শত শত ভুক্তভোগী এ কর্মসূচিতে অংশ নেন। তাদের অভিযোগ, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তের কারণে তারা গত দুই বছর ধরে আমানত করা অর্থ তুলতে পারছেন না, ফলে চিকিৎসা, শিক্ষা ও দৈনন্দিন খরচ মেটাতে চরম সংকটে পড়েছেন।
বিক্ষোভকারীরা প্ল্যাকার্ড ও ফেস্টুনে “হেয়ারকাট মানি না”, “এক দফা এক দাবি—হেয়ারকাট বাতিল কর”সহ নানা স্লোগান দেন। তারা দাবি করেন, ২১ জানুয়ারির একটি নির্দেশনায় পাঁচটি শরীয়াহভিত্তিক ব্যাংকের গত দুই বছরের মুনাফা কেটে নিয়ে পরিবর্তে ৪ শতাংশ বিশেষ সুবিধা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা তারা চুক্তিভঙ্গ ও অমানবিক সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখছেন।
আন্দোলনকারীরা পাঁচ দফা দাবি উত্থাপন করেন—হেয়ারকাট নীতি বাতিল, পূর্ণ মুনাফাসহ আমানত ফেরত, ব্যাংকগুলোর স্বাভাবিক লেনদেন পুনরায় চালু, তারল্য সংকট সমাধানে সরকারি সহায়তা, এবং মেয়াদোত্তীর্ণ এফডিআর, ডিপিএস ও এমটিডিআরের অর্থ চুক্তি অনুযায়ী পরিশোধ।
তারা আরও অভিযোগ করেন, একীভূতকরণের পর গঠিত সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসি-এর অধীনে মুনাফার হার একতরফাভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে, যা প্রায় ৭৫ লাখ পরিবারের অর্থনৈতিক ক্ষতির কারণ হয়েছে।
বিক্ষোভ শেষে তারা মিছিল করে কোতোয়ালি মোড় হয়ে নিউ মার্কেট মোড় পর্যন্ত যান। পরে প্রতিনিধি দল জানায়, বাংলাদেশ ব্যাংক তাদের সঙ্গে আলোচনার আশ্বাস দিয়েছে এবং দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন।