অনলাইন নিউজ ডেস্ক
গুম, খুন, অত্যাচার ও নির্যাতনমুক্ত দেশ গড়তে বর্তমান সরকার কাজ করছে বলে মন্তব্য করেছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আজম খান।
শনিবার (২৯ আগস্ট) আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রের ভেন্যু পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
আহমেদ আজম খান বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে আমরা এমন একটি সমাজব্যবস্থা গড়ে তুলতে চাই, যেখানে গুম, অত্যাচার ও নির্যাতন থাকবে না।’
তিনি বলেন, বিএনপি দীর্ঘ ১৮ বছর ধরে গুম, খুন ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে আন্দোলনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে। বর্তমান সরকার একটি গণতান্ত্রিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে কাজ করছে।
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও বিদেশে অবস্থান করে গুম ও খুনের বিরুদ্ধে আন্দোলনে অংশ নিয়েছেন। তিনি নিজেও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। তার ছোট ভাই আরাফাত রহমান কোকো শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়ে মারা গেছেন। সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। তবে গণতন্ত্র ও দেশের প্রশ্নে তিনি কখনো আপস করেননি।
মন্ত্রী জানান, আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে রোববার (৩০ আগস্ট) সারা দেশে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হবে। সকাল ১০টায় মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে একটি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।
তিনি বলেন, বর্তমান নির্বাচিত সরকার দেশপ্রেমিক ও গণতান্ত্রিক সরকার। এই সরকার গুম, খুন কিংবা কোনো ধরনের অত্যাচার ও নির্যাতনে বিশ্বাস করে না।
আহমেদ আজম খান বলেন, ‘ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে আমাদের এ দিবস পালন করতে দেওয়া হয়নি। এখন সুস্থ ও গণতান্ত্রিক পরিবেশে দেশপ্রেমিক সরকারের উদ্যোগে আমরা দিবসটি সফলভাবে পালন করব বলে আশা করছি।’
এ সময় মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন বলেন, ‘আমরা দেশের মানুষকে বার্তা দিতে চাই, দেশে গুমের দিন শেষ হয়ে গেছে। ভয়াবহ সেই কালো অধ্যায় অতিক্রম করে আমরা একটি ন্যায়বিচারের দেশ প্রতিষ্ঠা করতে চাই।’
তিনি বলেন, ‘এ ধরনের মানবতাবিরোধী অপরাধ আর কখনো দেশে সংঘটিত হতে দেওয়া যাবে না। আমরা জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার, জনগণের প্রতি দায়বদ্ধ। অতীতে যে ঘটনাগুলো ঘটেছে, সেগুলোরও বিচার হবে এবং সে লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে।’
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে আমরা এ দিবস পালন করব। বিগত দেড় দশকের ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে বিএনপি ও অন্যান্য অনেক ব্যক্তি গুমের শিকার হয়েছেন। দেশে আর কখনো যাতে গুম, নির্যাতন ও মানবাধিকার লঙ্ঘন না হয়, সে জন্য সরকার কাজ করছে।’
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ইশরাক হোসেন বলেন, ২০২৪ সালের রক্তাক্ত গণঅভ্যুত্থানে এক মাসের ব্যবধানে প্রায় দুই হাজার নিরীহ ছাত্র-জনতাকে যারা হত্যা করেছে, তাদের কারাগারে থাকা স্বাভাবিক। তাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে, তদন্ত চলছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী তাদের বিচার হবে বলেও জানান তিনি।