যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ-পূর্ব ও মধ্য-আটলান্টিক উপকূলীয় অঞ্চলে আঘাত হানার পথে রয়েছে শক্তিশালী শীতকালীন ঝড় ‘বোম্ব সাইক্লোন’। দ্রুত শক্তি সঞ্চয় করা এই ঝড়ের কারণে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ব্যাপক তুষারপাত, তীব্র ঝোড়ো হাওয়া এবং উপকূলীয় বন্যার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) সিএনএনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুক্রবার রাত থেকে শনিবারের মধ্যে ঝড়টির প্রভাব শুরু হতে পারে। শনিবার রাত নাগাদ নর্থ ক্যারোলাইনা ও ভার্জিনিয়ার উপকূলে ভারী তুষারপাতের সঙ্গে প্রায় হারিকেন-গতির দমকা বাতাস যুক্ত হয়ে বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। ঝড়টি উপকূলের কাছাকাছি থাকলে সপ্তাহান্তে নিউ ইংল্যান্ডের উপকূলীয় এলাকাতেও, বিশেষ করে পূর্ব ম্যাসাচুসেটসে, তুষারঝড় ও প্রবল বাতাস দেখা দিতে পারে।
আবহাওয়াবিদদের তথ্য অনুযায়ী, নর্থ ক্যারোলাইনার উপকূলের কাছে ঝড়টির সৃষ্টি হবে এবং পরে দ্রুত উত্তর দিকে অগ্রসর হয়ে আরও শক্তিশালী হবে। এই দ্রুত শক্তি বৃদ্ধির প্রক্রিয়াকে বলা হয় ‘বোম্বোজেনেসিস’। এর ফলে তীব্র ঠান্ডা বাতাস দক্ষিণমুখে নেমে আসবে এবং এমন এলাকাতেও তুষারপাত ঘটতে পারে, যেখানে সাধারণত তীব্র শীতকালীন আবহাওয়া দেখা যায় না।
দক্ষিণ-পূর্ব যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ২ কোটি ৮০ লাখ মানুষ ইতোমধ্যে শীতকালীন ঝড় সংক্রান্ত সতর্কতার আওতায় রয়েছে। এর মধ্যে জর্জিয়ার উত্তরাঞ্চল, দুই ক্যারোলাইনা এবং দক্ষিণ ভার্জিনিয়ার বিস্তীর্ণ এলাকা রয়েছে। এসব অঞ্চলের অনেক জায়গা এখনো আগের ঝড়ের ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে পারেনি— যেখানে বরফে ঢাকা সড়ক, যাতায়াত বিপর্যয় ও দীর্ঘ বিদ্যুৎ বিভ্রাটের ঘটনা ঘটেছিল। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ৩৭টি অঙ্গরাজ্যে বিভিন্ন মাত্রার আবহাওয়া সতর্কতা জারি আছে।
পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, শুক্রবার রাত থেকে শনিবার পর্যন্ত দক্ষিণ অ্যাপালাচিয়ান অঞ্চল, জর্জিয়া, ক্যারোলাইনা ও দক্ষিণ ভার্জিনিয়ায় উল্লেখযোগ্য তুষারপাত হতে পারে। মধ্য ও পূর্ব নর্থ ক্যারোলাইনা, উত্তর-পূর্ব সাউথ ক্যারোলাইনা এবং দক্ষিণ ভার্জিনিয়ার কিছু এলাকায় ৫ থেকে ১০ ইঞ্চি পর্যন্ত তুষার জমার সম্ভাবনা রয়েছে, কোথাও এর চেয়েও বেশি হতে পারে। সাউথ ক্যারোলাইনার রাজধানী কলাম্বিয়ায় ২০১০ সালের পর সবচেয়ে ভারী তুষারপাতের আশঙ্কা করা হচ্ছে।
জর্জিয়ার উত্তরাংশ ও সাউথ ক্যারোলাইনার পশ্চিমাঞ্চলেও তুষারপাত হতে পারে। এমনকি অল্প পরিমাণ তুষারও আটলান্টার মতো শহরে বড় ধরনের ভোগান্তি তৈরি করতে পারে, কারণ সেখানে তুষারপাত বিরল।
ঝড়টি সমুদ্রের ওপর শক্তিশালী হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে উপকূলজুড়ে প্রবল বাতাস বইতে পারে। নর্থ ক্যারোলাইনা ও ভার্জিনিয়ার উপকূলে দমকা হাওয়ার গতি ঘণ্টায় প্রায় ১২০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। ভারী তুষার ও তীব্র বাতাস একসঙ্গে হলে দৃশ্যমানতা প্রায় শূন্যে নেমে আসার আশঙ্কা রয়েছে। সবচেয়ে ঝুঁকিতে রয়েছে নর্থ ক্যারোলাইনার আউটার ব্যাংকস এবং দক্ষিণ-পূর্ব ভার্জিনিয়া অঞ্চল।
প্রবল অনশোর বাতাস ও মাসের সর্বোচ্চ জোয়ার একসঙ্গে হওয়ায় উপকূলীয় বন্যার ঝুঁকিও বেড়েছে। শনিবার রাত থেকে রোববারের মধ্যে উচ্চ জোয়ারের সময় আউটার ব্যাংকস ও ভার্জিনিয়ার টাইডওয়াটার এলাকায় মাঝারি থেকে গুরুতর বন্যা দেখা দিতে পারে।
২০২০ সালের পর থেকে আউটার ব্যাংকস এলাকায় দুই ডজনের বেশি সমুদ্রতীরবর্তী বাড়ি বিলীন হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়েও ঝড় ও সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে বেশ কয়েকটি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঝড়ের গতিপথ সামান্য পরিবর্তিত হলেও প্রভাবের মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে বদলে যেতে পারে। তাই সংশ্লিষ্ট এলাকাবাসীকে সর্বশেষ স্থানীয় আবহাওয়া পূর্বাভাস অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।