জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, দেশের তরুণ প্রজন্ম ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে যে শক্ত অবস্থান নিয়েছে, তারা এখনো সজাগ রয়েছে। জনগণের ভোটাধিকার নিয়ে কেউ হস্তক্ষেপের চেষ্টা করলে যুবসমাজ প্রতিরোধ গড়ে তুলবে বলেও তিনি সতর্ক করেন।
শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় কুমিল্লার লাকসাম স্টেডিয়ামে জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, একসময় প্রচলিত ছিল— “আমার ভোট আমি দেব, তোমারটাও আমি দেব”— এই সংস্কৃতি এখন আর চলবে না। গণতন্ত্রের মূল কথা হলো, প্রত্যেকে নিজের ভোট নিজে দেবেন এবং নিজের পছন্দের প্রার্থীকে বেছে নেবেন। এটিই গণতন্ত্রের প্রকৃত সৌন্দর্য।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দেশ কোনো একক গোষ্ঠীর নয়, এটি সবার। সম্মিলিত উদ্যোগেই একটি সভ্য রাষ্ট্র গড়ে তোলা সম্ভব। চাঁদাবাজি ও অনিয়মে ভরা সমাজকে সভ্য বলা যায় না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
চাঁদাবাজদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের পাশাপাশি সংশোধনের আহ্বান জানানো হবে। যারা এ পথে জড়িয়েছে, তাদের ফিরে আসার সুযোগ দেওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রয়োজনে পুনর্বাসন, শিক্ষা ও কাজের সুযোগ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হবে।
যুবকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, বেকার ভাতার মাধ্যমে তাদের নির্ভরশীল করে রাখা নয়, বরং যোগ্যতা অনুযায়ী কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করাই লক্ষ্য। তরুণদের দক্ষ জনশক্তি হিসেবে গড়ে তোলার অঙ্গীকারও ব্যক্ত করেন তিনি।
ধর্মীয় সম্প্রীতির বিষয়ে জামায়াত আমির বলেন, বাংলাদেশ সব ধর্মের মানুষের দেশ। মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান— সবাই সমান অধিকার ভোগ করবে। রাষ্ট্র পরিচালনায় দল বা ধর্ম নয়, যোগ্যতা ও দেশপ্রেমকে প্রাধান্য দেওয়া হবে।
কুমিল্লা-৯ (লাকসাম-মনোহরগঞ্জ) আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ড. সৈয়দ একেএম সরোয়ার উদ্দীন সিদ্দীকির সভাপতিত্বে জনসভায় আরও বক্তব্য দেন দলের নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এটিএম মাছুম, মাওলানা আব্দুল হালিম, এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলীয় মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহসহ জোটভুক্ত দলের নেতারা। সভায় স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় পর্যায়ের বিভিন্ন নেতা উপস্থিত ছিলেন।