ডেস্ক নিউজ। ঢাকা ৩০শে জুন:
কাতারে আটকে থাকা ৬ বিলিয়ন (৬০০ কোটি) মার্কিন ডলার সমমূল্যের সম্পদ ফেরত আসছে বলে জানিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। একই সঙ্গে শান্তি চুক্তির অংশ হিসেবে দেশটির জ্বালানি তেল ও পেট্রোকেমিক্যাল খাতের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞাও প্রত্যাহার করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি। এ ঘটনাকে ইরানি জনগণের জন্য ‘বড় বিজয়’ হিসেবে উল্লেখ করেন প্রেসিডেন্ট।
সোমবার (২৯ জুন) কোম শহরে গ্র্যান্ড আয়াতুল্লাহ শুবেইরি জানজানির সঙ্গে এক বৈঠকে পেজেশকিয়ান বলেন, কাতারে ইরানের মোট ১২ বিলিয়ন ডলারের তহবিল রয়েছে। এর মধ্যে ৬ বিলিয়ন ডলার অবমুক্ত করা হচ্ছে এবং বাকি অর্থও ধাপে ধাপে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া চলছে।
তিনি জানান, সুইজারল্যান্ডে অনুষ্ঠিত বৈঠক এবং সেখানে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) ভিত্তিতেই অর্থ ছাড় ও নিষেধাজ্ঞা শিথিলের সিদ্ধান্ত এসেছে।
যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে ইরানি জনগণের ভূমিকার প্রশংসা করে প্রেসিডেন্ট বলেন, সংঘাতে দেশের শীর্ষ নেতা, মন্ত্রী, সামরিক কমান্ডার এবং স্কুলশিক্ষার্থীরাও প্রাণ হারিয়েছেন। তবে প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও জনগণ, সরকার ও সশস্ত্র বাহিনী ঐক্যবদ্ধভাবে দেশ রক্ষায় কাজ করেছে।
পেজেশকিয়ানের ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে ইরানকে দুর্বল করার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু জনগণের দৃঢ় অবস্থানের কারণে সেই পরিকল্পনা সফল হয়নি।
পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়েও নিজের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন ইরানের প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, ইরান কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে চায় না। দেশের দীর্ঘদিনের ঘোষিত নীতি অনুযায়ী ভবিষ্যতেও সব পারমাণবিক কার্যক্রম শান্তিপূর্ণ ও বেসামরিক প্রয়োজনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে।
তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের চাপে ইসরায়েল সমঝোতায় সম্মত হলেও কিছু বিরোধী গোষ্ঠী এখনো এর বিরোধিতা করছে। তবে সরকার ইতোমধ্যে দেশ পুনর্গঠন এবং সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন শুরু করেছে।