যশোরের মনিরামপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান মিন্টুর একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে। গত কয়েকদিন ধরে তার বক্তব্যের একটি ভিডিও বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
জানা যায়, গত ২৫ জুলাই ১২ নম্বর শ্যামকুড় ইউনিয়ন বিএনপির যৌথ সভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে আসাদুজ্জামান মিন্টু বলেন, ‘আগামীকাল সকাল থেকে ফ্যামিলি কার্ডের নিয়োগ পরীক্ষা হবে। একজন জামায়াতে ইসলামীর কোনো কর্মীকে যদি উপজেলার মাঠে পাই, হাত-পা ভেঙে দেওয়া হবে।’
এ বক্তব্যে তিনি উপস্থিত নারী সমর্থকদেরও জামায়াতে ইসলামীর ‘বিভ্রান্তিমূলক কথাবার্তা’ সম্পর্কে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। পাশাপাশি ধর্মীয় প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, নামাজ, কোরআন তিলাওয়াত ও সামর্থ্য অনুযায়ী ফিতরা আদায়সহ ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভ যথাযথভাবে পালন করলেই মুক্তি অর্জন সম্ভব।
ভাইরাল হওয়া বক্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে আসাদুজ্জামান মিন্টু বলেন, এটি ছিল সম্পূর্ণ রাজনৈতিক বক্তব্য এবং বাস্তবে কাউকে লক্ষ্য করে দেওয়া কোনো নির্দেশনা নয়। রাজনৈতিক বক্তব্যে অনেক সময় এ ধরনের ভাষা ব্যবহৃত হয়ে থাকে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি দাবি করেন, পরবর্তীতে ফ্যামিলি কার্ডের নিয়োগ পরীক্ষা শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, পরীক্ষায় জামায়াতের প্রায় ১ হাজার ৩০০ জন এবং বিএনপির প্রায় ৭০০ জন সমর্থক অংশ নেন এবং সবাই নির্বিঘ্নে পরীক্ষা দিতে সক্ষম হন। তিনি বলেন, ‘২৯ তারিখ পরীক্ষা শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে। আমি নিজেও সেখানে উপস্থিত ছিলাম। আমার বক্তব্যকে কেন্দ্র করে যেন কেউ কোনো প্রতিক্রিয়া না দেখায়, সে বিষয়েও আমরা সতর্ক ছিলাম। কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।’
তিনি আরও জানান, বিষয়টি নিয়ে জামায়াত নেতাদের সঙ্গেও তার আলোচনা হয়েছে। তাদের কাছে তিনি ব্যাখ্যা দিয়েছেন যে, বক্তব্যটি রাজনৈতিক পরিপ্রেক্ষিতে দেওয়া হয়েছিল এবং এ নিয়ে কোনো ধরনের সমস্যা সৃষ্টি হয়নি।
অন্যদিকে, এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে চাইলে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনিরামপুর উপজেলা শাখার আমির ও যশোর জেলা শূরা সদস্য সহকারী অধ্যাপক ফজলুর রহমান ব্যস্ততার কথা জানিয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।