

বগুড়ার শিবগঞ্জে চাঞ্চল্যকর মা ও ছেলেকে কু-পিয়ে হ-ত্যা ঘটনার রহস্য উন্মোচিত হয়েছেন। মা-দক কেনার টাকা সংগ্রহে মোটরসাইকেল হাতিয়ে নিতেই প্রায় এক মাস আগে এ হ-ত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়।
রোববার (১৯ অক্টোবর) সন্ধ্যায় বগুড়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সাদিয়া আফসানা রিমার আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দি দিয়েছেন তিন আ-সামি। পরে তাদের বগুড়া কা-রাগারে পাঠানো হয়েছে। কোর্ট ইন্সপেক্টর শহীদুল ইসলাম এ তথ্য জানিয়েছেন।
আসামিরা হলেন- জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার একডালা গ্রামের মহির উদ্দিনের ছেলে মাহি ইসলাম (১৮), একই এলাকার আব্দুল জলিলের ছেলে প্রধান আ-সামি ও নি-হত গৃহবধূর মামাতো ভাই শাহিনুর রহমান জিসান (১৯) এবং শহিদুল ইসলামের ছেলে মো. সৈকত।
পুলিশ ও মামলা সূত্র জানায়, ১৫ সেপ্টেম্বর রাতে বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার সদর ইউনিয়নের সাদুল্লাপুর বটতলা গ্রামের কুয়েত প্রবাসী ইদ্রিস আলীর বাসায় হানা দেয় আ-সামিরা। তারা প্রবাসীর স্ত্রী রানী বেগম (৪০) ও বগুড়ার নিশিন্দারা ফকির উদ্দিন স্কুল অ্যান্ড কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্র ইমরান হোসেনকে (২২) কু-পিয়ে হ-ত্যা করে। এরপর তারা ইমরানের ব্যবহৃত মোটরসাইকেল ও স্বর্ণালংকার নিয়ে পালিয়ে যায়। এ ব্যাপারে শিবগঞ্জ থানায় মা-মলা হয়।
শিবগঞ্জ থানা পুলিশ তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে তিন আসামির অবস্থান নিশ্চিত করে। ১৫ অক্টোবর ঢাকার আশুলিয়া পূর্ব নরসিংহপুর এলাকা থেকে আসামি মাহি ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়। চার দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি হত্যার কথা স্বীকার করেন। তার স্বীকারোক্তিতে নওগাঁ সদরের একটি গ্যারেজ থেকে লুণ্ঠিত মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করা হয়।
এছাড়া তার দেওয়া তথ্যে ১৮ অক্টোবর রাতে ঢাকার খিলক্ষেত ডুমনি বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে শাহিনুর রহমান জিসান ও মো. সৈকতকে গ্রেফতার করা হয়।
শিবগঞ্জ থানার ওসি শাহীনুজ্জামান শাহিন জানান, চাঞ্চল্যকর মা-ছেলের হত্যা মামলার তিন আসামি আত্মগোপনে ছিল। তারা ছদ্মবেশে দেশের বিভিন্ন এলাকার মাজার ও অন্যান্য এলাকায় শ্রমিকের কাজ করছিল। গ্রেফতার তিনজন রোববার সন্ধ্যায় বগুড়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। পরে তাদের বগুড়া জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। স্বীকারোক্তিতে তারা মা ও ছেলেকে হত্যার দায় স্বীকার করেছেন।
তারা বলেন, মাদকের টাকা সংগ্রহ ও ঋণের বোঝা থেকে মুক্ত হতে এ ঘটনা ঘটিয়েছে।



