

পিরোজপুর-১ আসনে জামায়াত মনোনীত সংসদপ্রার্থী মাসুদ সাঈদী বলেছেন, দেশের উন্নয়ন শুধুমাত্র সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির মধ্য দিয়ে সম্ভব। যদি জাতি বা ধর্মভিত্তিক হানাহানি চালানো হয়, তবে জাতীয় অগ্রগতি ও উন্নয়ন ব্যাহত হবে। তাই সব রাজনৈতিক দলকে মিলিতভাবে সাম্প্রদায়িক সৌহার্দ্য রক্ষা করতে হবে।
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) মালিখালী ইউনিয়ন পরিষদের মাঠে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মালিখালী শাখার আয়োজিত হিন্দু-মুসলিম সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, “বাংলাদেশ ঐতিহ্যগতভাবে বহু ধর্ম ও জাতির মানুষের বসবাসের দেশ। এটাই দেশের সৌন্দর্য।”
মাসুদ সাঈদী আরও বলেন, দেশের মানুষ স্বভাবগতভাবেই ধর্মপ্রাণ, কিন্তু অন্য ধর্মের মানুষের সঙ্গে সুন্দর সম্পর্ক বজায় রাখে। এটি ধর্মের প্রকৃত সৌন্দর্য। আমরা চাই দেশটি সব ধর্মের সমন্বয়ে এক সুসজ্জিত ‘ফুলের বাগান’-এর মতো হোক।
তিনি দুষ্প্রচারকারীদের কঠোর সমালোচনা করে বলেন, অতীতের বস্তাপচা রাজনীতি ও জনগণের অধিকার লুটপাটকারীরা আর বাংলাদেশের মাটিতে জায়গা পাবে না। চব্বিশের যুবসমাজ পরিবর্তন চায় এবং আগামী ১৩ ফেব্রুয়ারি থেকে সেই পরিবর্তনের সূচনা হবে।
মাসুদ সাঈদী বলেন, “আমরা সন্ত্রাসমুক্ত, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও সিন্ডিকেটমুক্ত বাংলাদেশ চাই। যুবসমাজের জন্য কর্মসংস্থান বৃদ্ধি করতে চাই এবং শিক্ষাব্যবস্থা নৈতিক শিক্ষাসহ পুনর্গঠন করতে চাই। দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি আমরা গ্রহণ করব।”
তিনি বলেন, “আমরা জাতির শাসক হবো না, সেবক হবো। নতুন বাংলাদেশে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা জনগণের সেবক হিসেবে কাজ করবেন।”
কারো নাম না উল্লেখ করে মাসুদ সাঈদী অভিযোগ করেন, কিছু দল গভীর রাতে মানুষের বাড়িতে গিয়ে হুমকি দিচ্ছে বা টাকা দিয়ে ভোট কিনতে চেষ্টা করছে। তিনি সতর্ক করেন, ভোট কেনাবেচার এ ধরনের চেষ্টা করলে আইনের হাতে শাস্তি পাবে।
আসন্ন গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ’ ভোট দিলে বৈষম্য, শোষণ ও নিপীড়ন থেকে দেশ মুক্ত হবে, গণতন্ত্র প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পাবে এবং বাংলাদেশ উন্নত দেশের মর্যাদা অর্জন করবে। তাই আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট দিন, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ দিন এবং আপনার পরিচিতদেরও ভোট দিতে উৎসাহিত করুন। দেশ পরিবর্তনের চাবি এখন জনগণের হাতে।
উপস্থিত ছিলেন মালিখালী ইউনিয়ন সভাপতি মো. আব্দুল্লাহ নেওয়াজের সভাপতিত্বে। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নাজিরপুর উপজেলা আমীর মাওলানা আব্দুর রাজ্জাক। এছাড়া নাজিরপুর ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আবু সাইদ মোল্লা, সাবেক এমএনএর ভাতিজা ডা. বিভাষ বসু, তপন মন্ডল, সুজিত গাইন, নাজমুল ইসলাম ও মনোজ কান্তি প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।



