

সুগন্ধি চাল রপ্তানি নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত জানিয়েছে সরকার। ৬১টি প্রতিষ্ঠানের জন্য রপ্তানির সময়সীমা আগামী ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।
নির্বাচনের আগে ৮ ফেব্রুয়ারি আমদানি–রপ্তানি প্রধান নিয়ন্ত্রকের দপ্তরে পাঠানো এক চিঠিতে এ সিদ্ধান্তের কথা জানায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। একই চিঠির অনুলিপি সংশ্লিষ্ট ৬১টি প্রতিষ্ঠানকেও পাঠানো হয়েছে।
গত ৩১ ডিসেম্বর সুগন্ধি চাল রপ্তানির নির্ধারিত সময় শেষ হয়। পরে প্রতিষ্ঠানগুলোর আবেদনের ভিত্তিতে সময় বাড়ানো হয়। গত বছরের এপ্রিলে সক্ষমতা বিবেচনায় প্রতিষ্ঠানভেদে ১০০ থেকে ৫০০ টন পর্যন্ত রপ্তানির অনুমতি দেওয়া হয়েছিল।
মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, কেউ পুরো বরাদ্দ রপ্তানি করেছে, কেউ আংশিক। তবে অভিযোগ রয়েছে, সক্ষম কিছু প্রতিষ্ঠান পর্যাপ্ত বরাদ্দ পায়নি, আবার তুলনামূলক কম সক্ষমতার কিছু প্রতিষ্ঠান বেশি অনুমতি পেয়েছে।
নতুন শর্ত অনুযায়ী, প্রতি কেজি সুগন্ধি চালের ন্যূনতম রপ্তানি মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১ দশমিক ৬০ মার্কিন ডলার। ডলারপ্রতি ১২২ টাকা হিসেবে কেজিপ্রতি মূল্য দাঁড়ায় প্রায় ১৯৫ টাকা। অনুমোদিত পরিমাণের বেশি রপ্তানি করা যাবে না এবং প্রতিটি চালান জাহাজিকরণের পর প্রয়োজনীয় কাগজপত্র বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে জমা দিতে হবে। অনুমোদন হস্তান্তরযোগ্য নয়—অর্থাৎ সাব-কন্ট্রাক্টের মাধ্যমে অন্য কাউকে দিয়ে রপ্তানি করানো যাবে না।
রপ্তানি নীতি আদেশ অনুযায়ী, বাংলাদেশ থেকে সাধারণ চাল রপ্তানি নিষিদ্ধ। তবে বিশেষ সরকারি অনুমতিতে সুগন্ধি চাল রপ্তানির সুযোগ রয়েছে।
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো–এর তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯-২০ অর্থবছরে সুগন্ধি চাল রপ্তানি করে আয় হয়েছিল ২৮ লাখ ৮০ হাজার ডলার। ২০২০-২১ অর্থবছরে তা কমে দাঁড়ায় ২০ লাখ ৬০ হাজার ডলার এবং ২০২১-২২ অর্থবছরে আরও কমে ১০ লাখ ৭০ হাজার ডলারে নেমে আসে। ২০২২-২৩ অর্থবছরে সরকার সুগন্ধি চাল রপ্তানির অনুমতি স্থগিত রাখে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০০৯-১০ অর্থবছরে বাংলাদেশ প্রথম সুগন্ধি চাল রপ্তানি শুরু করে; সে বছর রপ্তানি হয় ৬৬৩ টন। পরবর্তী সময়ে তা বেড়ে ২০১৯-২০ অর্থবছরে ১০ হাজার ৮৭৯ টনে পৌঁছে। দেশে বছরে প্রায় ১৮ থেকে ২০ লাখ টন সুগন্ধি চাল উৎপাদিত হয়, যার মধ্যে গড়ে ১০ হাজার টন রপ্তানি করা হয়।
বর্তমানে যুক্তরাজ্য, ইউরোপের বিভিন্ন দেশ, যুক্তরাষ্ট্র, সংযুক্ত আরব আমিরাত, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, ব্রুনেই ও দক্ষিণ কোরিয়াসহ বিশ্বের ১৩০টির বেশি দেশে বাংলাদেশি সুগন্ধি চাল রপ্তানি হচ্ছে।
রপ্তানিযোগ্য সুগন্ধি চালের তালিকায় রয়েছে কালিজিরা, কালিজিরা টিপিএল-৬২, চিনিগুঁড়া, চিনি আতপ, চিনি কানাই, বাদশাভোগ, কাটারিভোগ, মদনভোগ, রাঁধুনিপাগল, বাঁশফুল, জটাবাঁশফুল, বিন্নাফুল, তুলসী মালা, তুলসী আতপ, তুলসী মণি, মধুমালা, খোরমা, সাককুর খোরমা, নুনিয়া, পশুশাইল ও দুলাভোগ।
সুগন্ধি চাল রপ্তানির প্রক্রিয়ায় খাদ্য মন্ত্রণালয়, কৃষি মন্ত্রণালয় ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সম্পৃক্ত। রপ্তানির আগে খাদ্য পরিকল্পনা ও পরিধারণ কমিটির সম্মতি নিতে হয় এবং কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ফাইটোস্যানিটারি সনদ ছাড়া কোনো প্রতিষ্ঠান রপ্তানি করতে পারে না।



