দূর্ঘটনারাজধানীশীর্ষ সমাচারসারাদেশ

কড়াইল বস্তিতে আগুন, এখনও খোলা আকাশের নিচে ক্ষতিগ্রস্তরা

অনলাইন নিউজ ডেস্ক

আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত কড়াইল বস্তিবাসীকে এখনও কোন সহযোগিতা দেয়নি সরকার। বৃহস্পতিবার সকালে এমনই অভিযোগ করেছেন বাসিন্দারা। তারা বলছেন, কোন সহযোগিতা না পেলে ঘুরে দাঁড়ানো সম্ভব নয়। তৃতীয় দিনেও খোলা আকাশের নিচে দিন কাটাচ্ছেন তারা। তবে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মধ্য খাবার সামগ্রী বিতরণ করতে দেখা গেছে কিছু এনজিও ও রাজনীতিবিদদের পক্ষ থেকে।

আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত কড়াইল বস্তিবাসীকে এখনও কোন সহযোগিতা দেয়নি সরকার। বৃহস্পতিবার সকালে এমনই অভিযোগ করেছেন বাসিন্দারা। তারা বলছেন, কোন সহযোগিতা না পেলে ঘুরে দাঁড়ানো সম্ভব নয়। তৃতীয় দিনেও খোলা আকাশের নিচে দিন কাটাচ্ছেন তারা। তবে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মধ্য খাবার সামগ্রী বিতরণ করতে দেখা গেছে কিছু এনজিও ও রাজনীতিবিদদের পক্ষ থেকে।

তৃতীয় দিনেও খোলা আকাশের নিচে দিন-রাত কাটছে কড়াইলে বস্তির বাসিন্দাদের। এক যুগেরও বেশি সময় কাটানো বাসিন্দারা ছাড়তে চাচ্ছেন না এ মাটির টান। তাদের অনেকেই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এসেছেন। এখনও কোন সরকারি সহযোগিতা না পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন তারা।এ

কপাশে ইটের দেয়াল, দুই পাশে কয়েক টুকরো পাশে ভাঙা টিনের বেড়া, তার ওপরে আগুনে পোড়া টিন তুলে ছোট একটা খুপরি ঘর পেতেছেন নির্মাণ শ্রমিক মো. সেলিম। আর নিচের পাকা মেঝে থেকে তখনো আগুনের উত্তাপ ছড়াচ্ছে কিছুটা। আগুনে নিজ ঘরের মাত্র কয়েকখানা পোড়া টিন ছাড়া আর কিছুই বাঁচাতে পারেনি সেলিম। স্ত্রী ও দুই সন্তান নিয়ে খোলা মাঠে রাত কাটানোর পর নিজ ঘরে ফিরেছেন, বেঁধেছেন ছোট ঘরখানাও।

সেলিমের স্ত্রী সুমী গৃহকর্মীর কাজ করেন। প্রতিদিনের মতো বিকেল তিনটার পর বাসায় ফিরে রান্না শেষ করেছেন মাত্র। এরই মধ্যে আগুন আর চিৎকারের শব্দ শুনে ছুটেছেন প্রাণ বাঁচাতে। সেলিম-সুমি দম্পতির জীবনে ভয়াবহ আগুনের ঘর পোড়ার অভিজ্ঞতা নতুন নয়। এই কড়াইল বস্তিতে সাত আট বছর আগেও আগুনে পুড়েছিল সব।

আগুনে আহত ও খোলা আকাশের নিচে রাত কাটানোদের মধ্য অসুস্থ হচ্ছেন শিশুরা। তাদের চিকিৎসা সেবা দিচ্ছে কয়েকটি রাজনৈতিক দল। কিছু বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ও রাজনীতিবিদদের পক্ষ থেকে বিচ্ছিন্ন বিক্ষিপ্তভাবে খাবার ও পোশাক পেয়েছেন ক্ষতিগ্রস্তরা।

আগুনের ক্ষয়ক্ষতি দেখতে এখনও আশেপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ ভিড় করছেন সেখানে। কন্টেন্ট ক্রিয়েটর, অসংখ্য গণমাধ্যমকর্মী, স্বেচ্ছাসেবকদের ভিড় ঠেলে অনেককে ভেতরে ঢুকতে বেশ হিমশিম খেতে হয়। আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার পর বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান, এনজিও কর্মী, সরকারি প্রতিষ্ঠানেরও অনেককে আসতে দেখা সেখানে।

মেহেদী হাসান রাতুল

বিশেষ প্রতিনিধি ( সিলেট )

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button